নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু উৎক্ষেপণের একেবারে শেষ মুহূর্তে সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া হল স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace)-এর বিক্রম-১ (Vikram-1) রকেটের প্রথম কক্ষপথ অভিযান ‘মিশন আগমন’ (Mission Aagaman)। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাউন্টডাউনের সময় একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নজরে আসায় নিরাপত্তার স্বার্থে উৎক্ষেপণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (First Launch Pad) থেকে শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণের কথা ছিল। উৎক্ষেপণের আগে কাউন্টডাউন চললেও শেষ পর্যায়ে সেটি ‘হোল্ড’-এ রাখা হয়। পরে জানানো হয়, সমস্ত তথ্য ও সিস্টেম পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন উৎক্ষেপণের সময় এখনও ঘোষণা করা হয়নি।কেন
কেন গুরুত্বপূর্ণ বিক্রম-১
বিক্রম-১ সফল হলে সেটিই হবে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বেসরকারি সংস্থার তৈরি কক্ষপথে উপগ্রহ বহনকারী রকেট। এর আগে ২০২২ সালে স্কাইরুটের Vikram-S সাব-অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলেও সেটি কক্ষপথে পৌঁছায়নি। বিক্রম-১ সেই সীমা অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে।
রকেটের বিশেষত্ব
প্রায় ২২ মিটার উচ্চতার তিন ধাপের কঠিন জ্বালানিচালিত এই রকেটের সঙ্গে রয়েছে একটি তরল জ্বালানির Orbital Adjustment Module (OAM)। এটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (LEO) সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫০ কেজি ওজনের উপগ্রহ বহন করতে সক্ষম।
মিশনের উদ্দেশ্য
এটি মূলত একটি প্রযুক্তি যাচাই (Technology Demonstration) অভিযান। উৎক্ষেপণ সফল হলে বিজ্ঞানীরা রকেটের প্রপালশন, স্টেজ সেপারেশন, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন, টেলিমেট্রি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করবেন। ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের ভিত্তি তৈরি করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য।
কী বহন করছে বিক্রম-১
এই পরীক্ষামূলক উড়ানে একাধিক প্রযুক্তিগত পেলোড রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশে রোবোটিক আর্ম প্রদর্শন, ক্ষুদ্র উপগ্রহ এবং স্কাইরুটের নিজস্ব প্রযুক্তি পরীক্ষার সরঞ্জাম।
কেন থামানো হল উৎক্ষেপণ
স্কাইরুট এখনও নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত সমস্যার বিস্তারিত জানায়নি। তবে মহাকাশ উৎক্ষেপণে সামান্যতম অসঙ্গতিও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই কারণে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাউন্টডাউন থামিয়ে সমস্ত সিস্টেম পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত সফল অভিযানের সম্ভাবনাই বাড়ায়।
বিক্রম ১ শুধু একটি রকেট নয়, এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের সক্ষমতার বড় পরীক্ষা। উৎক্ষেপণ সফল হলে ভারত বিশ্ব মহাকাশ বাণিজ্যের বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।
তবে একই সঙ্গে ভারতের মহাকাশ গবেষণার জগতে অন্য একটি বিষয়ও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যে ভাবে ইসরো থেকে শতাধিক বিজ্ঞানী গত কয়েক।মাসে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তাও সরকারি নীতির ব্যর্থতাকেই দর্শাচ্ছে। এই পরিস্থিতি যদি সমাধানের ইচ্ছা নিয়ে সরকার না পদক্ষেপ করে তবে দেশের মহাকাশ গবেষণায় যে সাফল্য পেয়েছিল ভারত তাও অচিরেই ধ্বংসের দিকে এগোবে।