যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশনমঞ্চে প্রকাশ রাজ-সহ সিপিআই(এম) নেতারা, কেন্দ্রের ভূমিকার তীব্র নিন্দা!

নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র যুবদের আন্দোলন সোমবার ১৬ দিনে পার দিল। আন্দোলন এবং অনশন কর্মসূচিতে রবিবার সংহতি জানাতে পৌঁছলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ, কেরলের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী টি. এম. থমাস আইজ্যাক, ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মন্ত্রী নরেশচন্দ্র জমাতিয়া এবং সিপিআই(এম)-এর কৃষ্ণ রক্ষিত। তাঁরা অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে দেখা করেন।

সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকা দলের পশ্চিমবঙ্গের দুই কেন্দ্রীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং শমীক লাহিড়ীও আন্দোলনস্থলে গিয়ে সংহতি জানান। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তাঁরা দেখা করতে পারেননি।

আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ছাত্র-যুব, শিক্ষক, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের কাছে ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ছাত্র-যুবদের বিভিন্ন দাবি মেনে নিতে হবে। এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সিজেপি (Cockroach Janta Party)। এসএফআই-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

যন্তর মন্তরে এসএফআই এর ক্যাম্পে যান সুজন চক্রবর্তী। সেখানে তিনি অভিযোগ, নিট-সহ একাধিক শিক্ষা-সংক্রান্ত দুর্নীতির ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিকভাবে মন্ত্রী পদে থাকার কোনও অধিকার নেই। তিনি বলেন, ছাত্র-যুবদের স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।

শমীক লাহিড়ীর দাবি, দেশের তরুণ প্রজন্ম দুর্নীতি ও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। তাঁর অভিযোগ, টানা ১৫ দিনের অনশন সত্ত্বেও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিনিধি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি। সরকার আন্দোলনকে উপেক্ষা করলে তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ দিকে দীর্ঘ অনশনের জেরে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর ওজন কমেছে এবং দুর্বলতা বেড়েছে। তবু তিনি অনশন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের বক্তব্য নিয়ে সরকার দ্রুত আলোচনায় বসুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *