রাম মন্দিরে প্রণামী থেকে চুরির টাকা খাটত শেয়ার বাজারে! বিস্ফোরক দাবি সিবিআইয়ের, সোমে সুপ্রিম শুনানি

নিজস্ব সংবাদদাতা: অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রণামীর টাকা সম্পদ চুরির ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই দাবি করেছে, চুরির টাকা থেকে সবার নজর এড়াতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নামে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই জমা করা হত। তারপর সেই অর্থ বিনিয়োগ করা হত শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে। অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী চুরিকাণ্ডে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এমনই বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, টাকার উৎস আড়াল করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।

এই ঘটনার জেরেই রামমন্দিরের প্রণামী চুরির তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে একাধিক পিটিশন জমা পড়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে সোমবার, ১৩ জুলাই সোমবার সেই সমস্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথম দিকে জামাকাপড়ের ভিতরে লুকিয়ে দু’হাজার টাকার মতো বাইরে বের করা হত। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ধৃতদের দাবি, এক সময় প্রতিদিন তিন লক্ষ থেকে আট লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রণামীর অর্থ সরানো হচ্ছিল। বর্তমানে ধৃত করুণেশ পান্ডে, লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জেরা চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের বয়ান থেকেই গোটা চক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।

শুধু টাকা চুরি নয়, অভিযোগ, সেই অপরাধের প্রমাণও পদ্ধতিগতভাবে লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র দাবি, দান গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ এডিট বা মুছে ফেলা হয়েছিল। ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ৭০টি সন্দেহজনক ঘটনার হদিস মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক ফুটেজে কর্মীদের জুতো এবং পোশাকের পকেটে টাকা লুকিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে।

এই মামলায় এখনও পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা-সহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ৩০টিরও বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, আত্মসাৎ হওয়া টাকার প্রকৃত অঙ্ক এর চেয়ে অনেক বেশি।

এই ঘটনায় মন্দির পরিচালন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র ঘটনাটিকে “লজ্জাজনক অধ্যায়” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য মন্দির পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। সেই লক্ষ্যে একজন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

এদিকে, মামলার শুনানির দিকে নজর রয়েছে দেশজুড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয় কি না এবং তদন্তের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *