বিশ্বকাপে গোলবন্যা! এক দিনে ৪ ম্যাচে ১৯ গোল, জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫, ড্র জাপান-নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া সাংবাদিক, ১৫ জুন : বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতীয় সময় রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন একের পর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ। চারটি ম্যাচে মোট ১৯ গোল, বড় জয় জার্মানি ও সুইডেনের, অন্যদিকে উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে পয়েন্ট ভাগ করে নিল জাপান ও নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ ই ও এফ-এ এই ম্যাচগুলির পর জমে উঠেছে নক-আউটের লড়াই।

জার্মানির গোল-উৎসব, কুরাসাওকে ৭-১ উড়িয়ে শক্তির বার্তা

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তুলে ধরল জার্মানি। গ্রুপ ই-এর ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় জার্মানদের। মাঝমাঠের দখল, দ্রুত পাসিং এবং ধারালো ফিনিশিংয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণকে বারবার ভেঙে দেন তারা।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণ বাড়িয়ে গোলের সংখ্যা সাতে পৌঁছে দেয় তারা। কুরাসাও একটি সান্ত্বনাসূচক গোল পেলেও জার্মানির দাপটের সামনে তা কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। এই জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষে উঠে বড় বার্তা দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সুইডেনের পাঁচ গোলের ঝড়, তিউনিসিয়ার অসহায় আত্মসমর্পণ

গ্রুপ এফ-এর অন্য ম্যাচে সুইডেন ৫-১ গোলে হারাল তিউনিসিয়াকে। ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডিশরা আক্রমণের ঝড় তোলে। ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোল এবং আক্রমণভাগের দুরন্ত সমন্বয়ে তিউনিসিয়ার রক্ষণ একের পর এক ভুল করতে বাধ্য হয়।

তিউনিসিয়া কিছু সময় লড়াই করার চেষ্টা করলেও সুইডেনের গতি ও শারীরিক শক্তির সামনে তারা কার্যত অসহায় ছিল। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় সুইডেন। এই জয়ের ফলে গ্রুপ এফ-এ গোলপার্থক্যের বিচারে বড় সুবিধা পেয়ে গেল তারা।

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জাপান-নেদারল্যান্ডস ২-২, শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি

দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ ছিল নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মুখোমুখি লড়াই। গ্রুপ এফ-এর এই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল উত্তেজনা, গতি এবং আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের লড়াই। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া ছিল এবং তার প্রতিফলন দেখা যায় মাঠে।

নেদারল্যান্ডস একাধিকবার এগিয়ে গেলেও জাপান দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। জাপানের সংগঠিত ফুটবল এবং নেদারল্যান্ডসের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে দর্শনীয় করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ২-২ ফলাফলে ম্যাচ শেষ হলেও দুই দলের পারফরম্যান্সই সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আইভরি কোস্টের কষ্টার্জিত জয়, হার মানল ইকুয়েডর

গ্রুপ ই-এর আরেক ম্যাচে তুলনামূলক কম গোল হলেও উত্তেজনার অভাব ছিল না। আইভরি কোস্ট ১-০ গোলে হারায় ইকুয়েডরকে। ম্যাচের অধিকাংশ সময় দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মাঝমাঠে বল দখল নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই আসে নির্ণায়ক গোল।

গোলের পর ইকুয়েডর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আইভরি কোস্টের রক্ষণ দুর্ভেদ্য প্রমাণিত হয়। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। এই জয়ের ফলে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল তারা।

চারটি ম্যাচে মোট ১৯ গোল, একাধিক বড় ব্যবধানের জয় এবং একটি হাইভোল্টেজ ড্র— বিশ্বকাপের এই দিনটি নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। জার্মানি ও সুইডেন নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে জাপান ও নেদারল্যান্ডস প্রমাণ করেছে যে এই বিশ্বকাপে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। গ্রুপ পর্বের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *