ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের কাছে বিরাট ধাক্কা খেল বিজেপি

নিজস্ব সংবাদদাতা, আগরতলা: ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি-সমর্থিত লইয়ার্স ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। ১৫টি পদের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেল সিপিআইএম ও কংগ্রেস-সমর্থিত ‘সেভ কনস্টিটিউশন ফোরাম’। বিজেপি-সমর্থিত প্যানেলের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ৫টি পদ।

আইনজীবী মহলে অত্যন্ত উৎসাহের মধ্যেই ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৬০১ জন বৈধ ভোটারের মধ্যে ৫৩০ জন ভোট দেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত চলে গণনা।

সবচেয়ে নজরকাড়া ফল আসে সভাপতি পদে। সেভ কনস্টিটিউশন ফোরামের পৃথা দেব পল ১৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থী মৃণালকান্তি বিশ্বাস পান ১৬৫ ভোট। সহ-সভাপতি পদে জীবনকৃষ্ণ সেন ২২১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ধনঞ্জয় দেববর্মা পান ১০৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ভাস্কর দেববর্মা ২৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিজেপি-সমর্থিত বিদ্যুৎ সূত্রধর পান ১৭৭ ভোট। সহকারী সম্পাদক (মহিলা সংরক্ষিত) পদে মল্লিকা সাহা ৩১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সাধারণ সহকারী সম্পাদক পদে ভবানীরঞ্জন ভট্টাচার্য ২১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

সদস্য পদেও সেভ কনস্টিটিউশন ফোরামের প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। মহিলা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হন রুথি দেববর্মা, লিখা ভৌমিক এবং ভান্ডারি রিয়াং। সাধারণ সদস্য পদে জয়ী হন স্বরূপ পণ্ডিত, নীলাদ্রি মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত দেবনাথ, কিশোর রায়, দেবজ্যোতি দেবনাথ এবং অনির্বাণ লোধ।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গিয়েছে, নির্বাচিত ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনই সেভ কনস্টিটিউশন ফোরামের প্রতিনিধি। ফলে ত্রিপুরার আইনজীবী মহলের বড় অংশের সমর্থন যে সংবিধান রক্ষা মঞ্চের দিকেই ঝুঁকেছে, সেই বার্তাই উঠে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

ফল প্রকাশের পর সংবিধান রক্ষা মঞ্চের সমর্থকেরা একে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনজীবীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে রায় বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, এই ফল বিজেপি-সমর্থিত শিবিরের কাছে নিঃসন্দেহে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে নবনির্বাচিত কমিটি ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *