নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে আন্দোলনের চাপে অনেক টালবাহানার পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বাধ্য হয়ে ইস্তফা দিতে হল। নরেন্দ্র মোদীর সরকারে এই প্রথম কোনও মন্ত্রীকে আন্দোলনের চাপে সরাতে বাধ্য হল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শিক্ষামন্ত্রী হলেন প্রহ্লাদ জোশী। শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এরপরই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিসভার রদবদলে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব পেলেন জোশী।
কর্নাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রহ্লাদ জোশী বর্তমানে কেন্দ্রের উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। নিজের এই দফতরের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্বও পালন করবেন তিনি। পাঁচ বারের এই সাংসদ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।
এর আগে জোশী কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী, খনি মন্ত্রী এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তিতেই তাঁকে দেশের শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
শনিবার দুপুর নাগাদ খবর মেলে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় দফার বৈঠকের দেড় ঘণ্টা আগেই ইস্তফা দিয়ে দেন তিনি। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সেই ইস্তফার কথা জানিয়েছিলেন।
বিগত দিনে বারবার নিট সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশ। দিল্লির যন্তর-মন্তরের সামনে ব্যাপক জামায়েতের মধ্যে দিয়ে শুরু বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন যুবরা। দিল্লি থেকে কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ সহ জেলা শহরগুলি সমেত গোটা দেশ থেকে সমর্থন মিলছিল এই আন্দোলনে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছিল আন্দোলনের ঝাঁঝ। পুলিশী দমনপিড়নের পরেও আন্দোলন এক ফোঁটা দমানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে ২৬ দিন ধরে অনশনে বসেছিলেন বিজ্ঞানী, পরিবেশ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। তিনি পরে অনশন ভাঙলেও, ককরোচ জনতা পার্টির শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল। শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান।