নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: দিল্লির সত্য নিকেতনে ছাত্রদের থাকার জন্য ব্যবহৃত একটি পাঁচতলা পিজি বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬। রবিবার দুপুরে আচমকা ভেঙে পড়ে বাড়িটি। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে দ্বিতীয় দিনেও তল্লাশি চালিয়েছে উদ্ধারকারী দল।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি সত্য নিকেতন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভেঙে পড়া বাড়িটিতে মূলত পড়ুয়াদের জন্য পিজি আবাসন চলত। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু ছাত্র ছিলেন বলে জানা যায়। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া কয়েক জন মোবাইল ফোনে সাহায্যের জন্য যোগাযোগও করেছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে মেরামতি বা সংস্কারের কাজ চলছিল। বিশেষ করে বেসমেন্টে কাজ চলার বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেসমেন্টে জল জমা এবং সেখানে নির্মাণকাজের ফলে বাড়িটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন।
স্থানীয়দের দাবি বাড়িটি প্রায় ৩০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো। দিল্লি পুরনিগমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সত্য নিকেতনের P-14 নম্বরের বাড়িটি প্রায় ৫৫ বর্গগজ জমির উপর তৈরি এবং এটি একটি রিসেটেলমেন্ট কলোনির অংশ। বাড়িটিতে বেসমেন্ট-সহ চারটি তলা ছিল।
ঘটনার পর দিল্লির বিজেপি সরকার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—অনুমোদনের বাইরে এত তলা বাড়ি কী ভাবে তৈরি হল? নিয়মিত পরিদর্শন এবং অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়গুলি কি পরীক্ষা করা হয়েছিল?এই প্রশ্নেই MCD কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলির ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সোমবার MCD-র দফতরের সামনে SFI ও অন্য ছাত্র সংগঠনগুলি বিক্ষোভ দেখায় এবং কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলে। বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জনকে আটকও করা হয়।