নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই: দেশজুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কিন্তু এখন অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা পালন করা হচ্ছে না। এই আবহে কি ফের আন্দোলন শুরু হতে পারে, উঠছে প্রশ্ন।
সিজেপির অভিযোগ আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্তের পরই অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের আটক, গ্রেফতার এবং এফআইআর দায়েরের করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে সিজেপি। তাদের অভিযোগ, সরকার প্রকাশ্যে যে আশ্বাস দিয়েছিল তা রক্ষা করা হচ্ছে না।
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
বিবৃতির শেষ অংশে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে CJP জানিয়েছে, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মধ্যে নয়, সেই প্রতিশ্রুতি পালন করার মধ্যেই নিহিত। যদি সরকার নিজের দেওয়া আশ্বাস রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ভঙ্গ নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবকের আস্থারও অবমাননা।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে CJP জানিয়েছে, আন্দোলন স্থগিত করার আগে কেন্দ্র সরকারের স্পষ্ট আশ্বাস ছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ছাত্র বা প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিরোধী বলেই দাবি করেছে সংগঠনটি।
দেশজুড়ে NEET-UG ২০২৬-এর কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছাত্রদের উপর পুলিশি দমন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনে প্রথম থেকেই সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ ছিল SFI-এর মতো বামপন্থী সংগঠনগুলিরও। তার ফলে আন্দোলন ক্রমশ জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, তরুণ-তরুণী ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে তা বড় আকার ধারণ করতে থাকে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে CJP নেতৃত্বের একাধিক দফা আলোচনা হয়। তৃতীয় বৈটকের আগেই চাপে পড়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তার পর বৈঠকে আন্দোলন তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়। এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলনের শর্ত সরকার মেনে নেওয়ার পরই আন্দোলন তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
সরকারের দেওয়া আশ্বাস
CJP-এর দাবি অনুযায়ী, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—
- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধমূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
- যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।
- আন্দোলন-সংক্রান্ত এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
- এই প্রতিশ্রুতির লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হবে।
এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই CJP দেশব্যাপী আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আন্দোলনের তীব্র চাপের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন। পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন প্রহ্লাদ জোশী। CJP এই ঘটনাকে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও জানিয়েছে, শুধু মন্ত্রীর পরিবর্তন করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয় না, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
CJP-এর অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পরও অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে ছাত্র ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার, আটক এবং পুলিশি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনের মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারের কথায় বিশ্বাস রেখেই লক্ষ লক্ষ তরুণ সংলাপের পথ বেছে নিয়েছিল। এখন সেই আশ্বাস ভঙ্গ হলে তা কেবল CJP-এর সঙ্গে নয়, দেশের যুবসমাজের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা।
CJP-এর দাবি
অবিলম্বে—
- সমস্ত আটক আন্দোলনকারীকে নিঃশর্ত মুক্তি,
- আন্দোলন-সংক্রান্ত সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার,
- ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ,
- এবং ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের লিখিত গ্যারান্টি দাবি করেছে।
একই সঙ্গে CJP জানিয়েছে, তাদের আইনজীবী দল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আটক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা ও মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে।