নিজস্ব প্রতিবেদন: সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রোজকার মতোই। যাত্রীও উঠেছিলেন গাড়িতে। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর আচমকাই বন্ধ হয়ে গেল ই-রিকশা। ব্যাটারিতে চার্জ ছিল, তবু আর এক ইঞ্চিও এগোল না গাড়ি। এমন অভিজ্ঞতার কথা এখন শোনা যাচ্ছে বহু ই-রিকশা বা টোটো চালকের মুখে। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে BAT BMS। BAT — ব্র্যান্ড/প্রস্তুতকারকের নাম BMS — Battery Management System (ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)।
যদিও অভিযোগ এখনও স্বাধীন বা সরকারি ভাবে পরীক্ষা বা প্রমাণিত হয়নি। তবে ই-রিকশা চালকদের একাংশের দাবি, কিছু ব্যাটারিতে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ, দূর থেকে অ্যাপের মাধ্যমে অন্য কেউ ব্যাটারি লক করে দিচ্ছে। ফলে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছে গাড়ি।
BMS আসলে কী?
BMS বা ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হল ব্যাটারির ‘মস্তিষ্ক’। ব্যাটারির চার্জ, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ-সহ বিভিন্ন বিষয় নজরে রাখে এই ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা। কোনও সমস্যা দেখা দিলে ব্যাটারিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে এটি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধও করে দিতে পারে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে এই ব্যবস্থা এখন প্রায় বাধ্যতামূলক।
কিন্তু অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিই এখন চালকদের সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।
কী অভিযোগ করছেন চালকেরা?
বিভিন্ন রাজ্যের চালকদের অভিযোগ—
- চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
- ব্যাটারিতে চার্জ থাকলেও মোটরে বিদ্যুৎ পৌঁছচ্ছে না।
- স্থানীয় মিস্ত্রিরা সমস্যা ঠিক করতে পারছেন না।
- পরিষেবা কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
- অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি বন্ধ থাকায় দিনের রোজগার নষ্ট হচ্ছে।
চালকদের একাংশের আরও অভিযোগ, কোনও কোনও ব্যাটারি সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ব্যবহারকারীর হাতে সব সময় নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের মতে, BMS-এর মূল কাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ব্যাটারির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা থাকলে বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে BMS নিজে থেকেই ব্যাটারিকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
তবে যদি কোনও সফ্টওয়্যার ত্রুটি থাকে বা পরিষেবা দ্রুত না মেলে, তাহলে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি স্বচ্ছ পরিষেবা ব্যবস্থাও জরুরি।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা এখন ই-রিকশার উপর নির্ভরশীল। মাঝপথে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে শুধু যাত্রীর অসুবিধাই নয়, চালকের দিনের আয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই BAT BMS নিয়ে ওঠা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনে সমস্যার সমাধান চান চালকরা। ই-রিকশা চালকদের দাবি, যদি সত্যিই কোনও অ্যাপ দিয়ে এ ভাবে তাঁদের যানকে বন্ধ করে দেওয়া হয় তবে সরকার এই অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক। তাঁদের জীবীকা বাঁচান।