নিজস্ব সংবাদদাতা, শালবনি: আয় বাড়িয়ে দেখাতে হবে, না হলে দেওয়া হবে না ইনকাম সার্টিফিকেট— অভিযোগ, এমনই নাকি নিদান দেওয়া হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকের তরফে। আর যে ছাত্রছাত্রীদের প্রতি এই অন্যায়ের অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই দিনমজুর পরিবারের সন্তান। ফলে ইনকাম সার্টিফিকেটের অভাবে তাঁরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারছেন না।
শালবনির সৈয়দপুরের নান্দাড়িয়া শাস্ত্রী স্মৃতি বিদ্যাপীঠ (উচ্চতর মাধ্যমিক)-এর অষ্টম ও নবম শ্রেণির সংখ্যালঘু ছাত্ররা স্কলারশিপে আবেদনের জন্য আর্থিক শংসাপত্র বের করতে প্রথমে নিয়ম মেনে স্থানীয় পঞ্চায়েতে যায়। সেখানে তাদের পারিবারিক বার্ষিক ৮৪ হাজার টাকা আয়ের শংসাপত্র দেওয়া হয়। এর পরের ধাপে ছাত্ররা যখন বিডিও অফিসে ইনকাম সার্টিফিকেট আনতে যায়, তখন তাদের বলা হয়, ন্যূনতম বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা আয়ের নিচে কোনও আর্থিক শংসাপত্র দেওয়া হবে না।
অথচ, মিরাজ খান, জিসান খানদের মতো ছাত্রছাত্রীদের পরিবার মূলত দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। কারও বাবা লরিতে লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করেন, কেউ অন্যের দোকানে কাজ করেন। এমন গরিব পরিবারগুলির বার্ষিক আয় ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা বলে স্বীকার করতেই হবে। না হলে দেওয়া হবে না ইনকাম সার্টিফিকেট। যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়, ছাত্রছাত্রীদের মায়েরা নাকি সবাই অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। তাই পরিবারের আয় বার্ষিক ১ লক্ষ টাকার কম হতেই পারে না। অথচ পশ্চিমবঙ্গের কোনও পরিবারের ক্ষেত্রেই তা সত্যি নয়। হয় এক মাস পাওয়ার পর পরের মাসে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না, কেউ কেউ আজ পর্যন্ত হয়তো এক বারও পাননি।
এখানে স্বাভাবিক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মাকে ভাতা দিলেও কি ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়? অথচ বাস্তবতা হল, ওই ছাত্রছাত্রীদের পরিবারগুলির অধিকাংশই অন্নপূর্ণা বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের টাকা পায় না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শালবনির বিডিও অফিসের এহেন আচরণ কেন?
প্রশ্ন তুলেছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক রণিত বেরা। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু মুসলিম বলেই কি এমন ফতোয়া দিয়ে তাঁদের বাধ্য করা হচ্ছে স্কলারশিপের অধিকার—পড়াশোনার অধিকার থেকেই বঞ্চিত করার জন্য? নাকি শুধু এটি নয়, আসলে দেশের সমস্ত গরিবের তথ্য এভাবেই গুলিয়ে দিয়ে দিনের মিথ্যে সিনেমা আর অর্থনৈতিক উন্নতির গল্প বলছে বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের সরকার?
ইতিমধ্যেই গরিব ছাত্রছাত্রীদের অধিকার রক্ষার্থে সরব হয়েছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI)। জেলাশাসক-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার সমাধানের জন্য অভিযোগ জানিয়েছে তারা। SFI হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সমস্যার সমাধান না হলে প্রয়োজনে সারা জেলার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শালবনি ব্লকের বিডিও অফিসে দুর্বার ছাত্র আন্দোলন নামিয়ে আনবে তারা।