ছাত্রদের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগে অমিত শাহকে বরখাস্তের দাবি রাহুলের— ‘তিনি হয় দোষী, নয় অযোগ্য’

নয়াদিল্লি: নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে দিল্লিতে প্যালেট গান ও লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বরখাস্তের তীব্র দাবি তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের উপর পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য অমিত শাহ হয় সরাসরি দায়ী, নয়তো তিনি নিজের দফতরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেই অবগত ছিলেন না। দুই ক্ষেত্রেই তাঁর পদে থাকার অধিকার নেই।

বুধবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “আমি শুধু একটি প্রশ্ন তুলেছি। দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদের উপর প্যালেট গান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথবা তিনি জানতেনই না যে এই ঘটনা ঘটছে। প্রথম ক্ষেত্রে তিনি দোষী, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য। তৃতীয় কোনও সম্ভাবনা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি লোকসভায় এসে তা স্পষ্ট করে বলছেন না কেন? তিনি যদি কিছু না করে থাকেন, তাহলে সংসদে এসে তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।”

এর আগে লোকসভায় রাহুল গান্ধীর এই সংক্রান্ত মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। রাহুল বলেন, “আমি বিজেপি বা আরএসএস-এর কাছে কখনও ক্ষমা চাইব না। সংসদে কথা বলার অধিকার আমার রয়েছে, সেই অধিকার আমাকে প্রয়োগ করতে দিতে হবে।”

এদিনই লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026। নতুন সংশোধনী আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত জালিয়াতির জন্য শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে।

নতুন আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ওএমআর শিটে কারচুপি, ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি, জাল অ্যাডমিট কার্ড ইস্যুসহ মোট ১৫ ধরনের অনিয়মকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধে পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রসঙ্গেও রাহুল গান্ধী বলেন, “এটি কেবল উপর উপর পরিবর্তন। ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রণ আরএসএস-এর হাতে রয়েছে।” রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর সরকারপক্ষ তীব্র আপত্তি জানায়। তাঁর বক্তব্যের একাংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং বিষয়টি নিয়ে লোকসভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *