‘মায়ের নামে একটি গাছ’ লাগানোর স্লোগান দিয়ে আদানিকে বিশাল জঙ্গল ধ্বংসের অনুমতি বিজেপির!

নিজস্ব সংবাদদাতা: পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে একদিকে ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ লাগানোর প্রচার, অন্যদিকে শিল্পপতিদের প্রকল্পের জন্য বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি—বিজেপি শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের এই দ্বৈত নীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার আদানি গোষ্ঠীর দুই প্রকল্পের জন্য মোট প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।

রায়গড়ের আলিবাগে প্রায় ৬৯,৯৩৩ বর্গফুট, অর্থাৎ ০.৬৪৯৭ হেক্টর বনভূমি আদানি সিমেন্টেশন লিমিটেডের প্রস্তাবিত রায়গড় সিমেন্ট বাল্ক টার্মিনালের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির মধ্যে রিজার্ভড ফরেস্ট এবং নালা ও খাঁড়ির ম্যানগ্রোভ বনভূমিও রয়েছে। ওই জমিতে জেটি, কনভেয়ার করিডর এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে আদানিদের।

আরও প্রায় ১৩,৭৮৮ বর্গফুট বা ০.১২৮১ হেক্টর বনভূমি অমরাবতীতে আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ স্টিলের গ্যাস পাইপলাইন বসিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিকাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে বনভূমি ব্যবহারের অনুমোদনের পরিমাণ প্রায় ০.৭৮ হেক্টর, অর্থাৎ প্রায় ১.৯৩ একর।

‘বন বাঁচাও’ বার্তা, বাস্তবে অন্য ছবি?

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মূল প্রশ্ন উঠছে সরকারের পরিবেশনীতি নিয়ে। সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া এবং ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ লাগানোর প্রচারে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। আর উল্টো দিকে একের পর এক জঙ্গল পাহাড় সমুদ্র ধ্বংস করার জন্য আদানিদের মতো শিল্পপতিদের আবাদ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ কর্মী, বিরোধী কারোর কোনও কথাতেই কর্ণপাত করছে না এই সরকার। বামপন্থী দলগুলির বক্তব্য, জল জমি জঙ্গল ধ্বংস হলে সব থেকে বেশি সর্বনাশের মুখে পড়বেন সাধারণ গরীব খেটে খাওয়া মানুষ।

আলিবাগের ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ বনভূমি যুক্ত থাকায় উদ্বেগ আরও বেশি। ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূল ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি এগুলি জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। ফলে এমন জমি শিল্পপরিকাঠামোর কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব কতটা গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।

‘বিক্রি’ নয়, কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—এই ঘটনাকে ‘৮৩,৭০০ বর্গকিলোমিটার জঙ্গল আদানিকে বিক্রি’ বলা ঠিক নয়। অনুমোদিত জমির পরিমাণ ৮৩,৭০০ বর্গফুট, এবং সরকারি সিদ্ধান্তটি বনভূমিকে নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমতি বা diversion। অর্থাৎ তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রেখে সরকারের সমালোচনা করাই বেশি কার্যকর।

প্রশ্ন হল, উন্নয়নের নামে যখন বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তখন পরিবেশের ক্ষতির প্রকৃত মূল্য কে দেবে? আরও গুরুত্বপূর্ণ, একই সরকার সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বের কথা বললেও বড় শিল্পগোষ্ঠীর প্রকল্পের ক্ষেত্রে বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার নীতি কি একই মানদণ্ডে বিচার করা হচ্ছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *