এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করতে একে গোপালন ভবনে দিল্লি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লিতে সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় একে গোপালন ভবন থেকে ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করতে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ। ২০২১ সালের একটি মামলার সূত্র ধরে ঐশি ঘোষকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সোমবার দিল্লি পুলিশ একেজি ভবনে পৌঁছায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে সিপিআইএমের তরফে।

পুলিশ যন্তর মন্তরে যুবদের বিক্ষোভে সক্রিয় অংশগ্রহণের জেরে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ও দিল্লি রাজ্য সম্পাদক ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে সিপিআইএম।

সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, একেজি ভবনে আসা পুলিশকর্মীদের কারও গায়ে ইউনিফর্ম ছিল না, এমনকি পরিচয়পত্র বা ব্যাজও দৃশ্যমান ছিল না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিআইএম রাজ্য সভার সাংসদ জন ব্রিটাস। তিনি পুলিশ আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, ইউনিফর্ম ও ব্যাজ ছাড়া তারা কীভাবে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করলেন।

জবাবে পুলিশ জানায়, বৃষ্টির কারণে তারা ইউনিফর্ম পরেননি। উত্তরে জন ব্রিটাস বলেন, “আপনারা ইউনিফর্ম পরে আসুন, আমরা অপেক্ষা করছি।” এর পরই পুলিশকর্মীরা খালি হাতে একেজি ভবন ছেড়ে চলে যান।

ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২০২১ সালের মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ জুলাই আদালতে নির্ধারিত রয়েছে। সিপিআই(এম)-এর দাবি, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরের সাম্প্রতিক যুব বিক্ষোভে ঐশির সক্রিয় ভূমিকার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মী-সমর্থকদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে জন ব্রিটাস বলেন, কোনও পূর্ব নোটিস বা নিয়ম মাফিক প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ প্রবেশ করেছে। তাঁর অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য ছিল ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বার্তা দেওয়া।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাকে হাতিয়ার করে প্রশাসন চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *