নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০ জুলাই সিজেপি (CJP)-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল সামলাতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) যে ‘ফোর্স গ্রেডিয়েন্ট’ বা ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করেছিল, তা নির্ধারিত মানদণ্ড এবং আরএএফের প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
মিছিল চলাকালীন তিন জনের পেলেট গানের আঘাতে আহত হওয়ার ঘটনার পর আরএএফের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে একাধিক ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশি পরিভাষায় ‘ফোর্স গ্রেডিয়েন্ট’ বলতে পরিস্থিতি ও প্রতিরোধের মাত্রা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগের নীতিকে বোঝায়।
সূত্রের দাবি, ২২ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সে দিল্লিতে মোতায়েন কোম্পানি কমান্ডার ও কমান্ড্যান্টদের সঙ্গে বৈঠকে আরএএফের মহাপরিদর্শক (আইজি) সীমা ধুন্ধিয়া ভবিষ্যতের জন্য একাধিক নির্দেশ দেন। বৈঠকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ এবং ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আরএএফের ভূমিকা, মোতায়েন ও আচরণ পর্যালোচনা করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
সূত্রের বক্তব্য, ধুন্ধিয়া জানান, ২০ জুলাই যন্তর মন্তর ও সংসদ চত্বরের আশপাশে মোতায়েনের আগে বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ ও সময়মতো ব্রিফিং করা হয়নি। পাশাপাশি কোন কোম্পানি কোথায় এবং কী দায়িত্বে রয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও সেক্টর সদর দফতরে সময়মতো পৌঁছায়নি। ভবিষ্যতে প্রতিটি কোম্পানির মোতায়েন, অবস্থান এবং কাজের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরএএফ ১৯৯২ সালে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) বিশেষ ইউনিট হিসেবে দাঙ্গা ও জনঅশান্তি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের মতো বিশেষ অভিযান এলাকাগুলি থেকে বদলি হয়ে আসা কর্মীদের অবিলম্বে দিল্লিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে না দেওয়াই উচিত। কারণ, ওই ধরনের এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা এবং দিল্লি, বিহার, অসম বা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা এক নয়; এখানে আলাদা ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।
কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বলপ্রয়োগ করতে হলে তা যেন কেবল প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই থাকে এবং তা হয় বিচক্ষণ, ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল। বলপ্রয়োগের আগে সতর্কবার্তা দিতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস বা অনুমোদিত অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বলপ্রয়োগ করতে হলে তা যেন কেবল প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই থাকে এবং তা হয় বিচক্ষণ, ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল। বলপ্রয়োগের আগে সতর্কবার্তা দিতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস বা অনুমোদিত অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে, কিছু আরএএফ সদস্যকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হেলমেট ও বডি প্রোটেক্টর ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে। সেই কারণে ভবিষ্যতে প্রত্যেক সদস্যকে নির্ধারিত সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে দায়িত্বে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে হেলমেট, ভিসর, প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং সেগুলির ব্যবহারযোগ্যতার উপর।
সূত্রের দাবি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিতে মোতায়েন কর্মীদের হাতে পিএজি (PAG), অ্যান্টি-রায়ট গান, বৈদ্যুতিক শক অস্ত্র এবং বৈদ্যুতিক ঢাল দেওয়া হবে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে বলা হয়েছে, আরএএফের রূপান্তর প্রশিক্ষণ (RAF conversion training) সম্পূর্ণ না করা কোনও সদস্যকে ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজে মোতায়েন করা যাবে না। জনবলের অভাবে কাউকে পাঠাতে হলেও তাঁকে আগে বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করতে হবে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি, উসকানি, কটূক্তি বা ব্যক্তিগত মন্তব্যে কোনওভাবেই প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ধৈর্য, সংযম এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিআরপিএফের মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে বলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরে, যেমন প্রতিটি বড় দায়িত্বের পর করা হয়, তেমনই এই ঘটনাতেও একটি পেশাদার মূল্যায়ন করা হবে।