রাজ্যের ৫১টি সরকারি আইটিআই যাচ্ছে বেসরকারি হাতে, গরিব মধ্যবিত্তের শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি করে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। রাজ্যের ৫১টি সরকারি আইটিআইকে (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে পরিচালনার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী কে কেন্দ্র করে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

রাজ্য সরকার বলছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, এটি আসলে সরকারি কারিগরি শিক্ষায় বেসরকারি কর্পোরেটের প্রবেশ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ।

এই বিতর্কের মধ্যেই উঠে আসছে রাজ্যের বাজেটের পরিসংখ্যান। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট প্রস্তাবে স্কুল শিক্ষা খাতে প্রায় ₹৪১ হাজার কোটির বেশি এবং উচ্চশিক্ষা খাতে ₹৬,৮৫৮.৬৯ কোটি বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেবল গত বছরের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি হলেই তা যথেষ্ট নয়। মূল্যবৃদ্ধি, নতুন শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার, ডিজিটাল শিক্ষা, গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার চাহিদার সঙ্গে তুলনা করলে এই বরাদ্দের বাস্তব মূল্য অনেকটাই কমে যায়। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় এমন মাত্রায় পৌঁছয়নি, যা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সক্ষম।

সমালোচকদের অভিযোগ, হাজার হাজার শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য, বহু সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে, অনেক আইটিআই-তে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। এই সমস্যাগুলি সরকারি বিনিয়োগে সমাধান করার পরিবর্তে PPP মডেলকে সামনে আনা হচ্ছে। ফলে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার উপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলেই তাঁদের দাবি।

বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, যদি সরকার নিজেই পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করে সরকারি আইটিআইগুলিকে আধুনিকীকরণ করত, তাহলে বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হতো না। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়ন সীমিত রেখে পরে বেসরকারিকরণকে “অপরিহার্য” বলে তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের দাবি, আইটিআইগুলির মালিকানা সরকারের কাছেই থাকবে। বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও শিল্প-সংযোগের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত করবে এবং ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।

তবে সরকার এখনও কোন ৫১টি আইটিআই এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবে, কোন সংস্থা দায়িত্ব পাবে এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক শর্ত কী হবে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের অগ্রাধিকার এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *