মাটির সঙ্গে যোগ নেই, জনগণকে ট্রোল করেই কি ১১ বছরের ‘চাকরি’ গেল অমিত মালভিয়ার?

নয়াদিল্লি: ১১ বছর পর বিজেপির আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরানো হল অমিত মালভিয়াকে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে দীপক ম্হাসকেকে। দলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিজেপির একটি অংশের মতে, সাম্প্রতিক Gen Z আন্দোলনের সময় দলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে বিজেপির প্রচার কৌশল এবং তরুণদের লক্ষ্য করে তৈরি পোস্ট-বার্তা নিয়ে সমালোচনা হয়। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় সময়ে সময়ে লেনিন, নেতাজি সম্পর্কে ভিত্তিহীন পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অন্য নানান ভাবে। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। মুখ পুড়েছে বিজেপির। এমনকি ফেক পোস্টের ভিত্তিতে জায়গায় লেনিন মূর্তি ভাঙার দাবি তুলে হুমকি দিতেও দেখা গিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠের তরফে। সেই সব হাঙ্গামার মূল ভিত্তি এই সব ফেক পোস্ট বলেই মনে করেন অনেকে।

দলের অন্দরে আরও অভিযোগ, মালভিয়ার কিছু পোস্টে আক্রমণাত্মক ভাষা এবং নাগরিকদের ট্রোল করার প্রবণতা দলের ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর হয়েছে। এমনকি আরএসএস-ঘনিষ্ঠ মতাদর্শী রতন শারদাও অতীতে মালভিয়ার এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন।

বিদেশনীতি-সহ কয়েকটি সাম্প্রতিক বিষয়ে আইটি সেলের কিছু পোস্ট নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট ছিল বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। দলের একাংশের মত, দীর্ঘদিন একই নেতৃত্বে থাকায় নতুন ভাবনা ও সৃজনশীলতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গেও মালভিয়ার ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ ছিল বলে সূত্রের দাবি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে তিনি কয়েক জন প্রবীণ বিজেপি নেতাকে যথেষ্ট সময় দেননি—এমন অভিযোগও উঠেছিল। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘সব কিছুরই একটা মেয়াদ থাকে। এখন নতুন মুখ ও নতুন ভাবনার প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *