নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি গৌতম আদানি-সহ আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মার্কিন ফৌজদারি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদনকে তাৎক্ষণিকভাবে মঞ্জুর করতে অস্বীকার করল মার্কিন ফেডারেল আদালত। বরং বিচারপতি ব্রায়ান এম. গারাউফিস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু কয়েক লাইনের ব্যাখ্যা দিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি ও বিদেশি ঘুষ সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার করা যায় না। কেন মামলা প্রত্যাহার করতে চাওয়া হচ্ছে, তার প্রতিটি কারণ এবং সেই কারণের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
আদালতের এই নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার দপ্তরের (DOJ) জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে আইনি মহল। কারণ, বিচার দপ্তর তাদের আবেদনে কেবল জানিয়েছিল যে তারা “প্রসিকিউটোরিয়াল ডিসক্রেশন” বা নিজস্ব বিবেচনায় এই মামলায় আর সরকারি সম্পদ ব্যয় করতে চায় না। কিন্তু বিচারপতির মতে, এত সংক্ষিপ্ত এবং অস্পষ্ট ব্যাখ্যা আদালতের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।
গৌতম আদানি, সাগর আদানি, ভনীত জৈন-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সুবিধা পেতে ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও গোপন রাখা হয়। অভিযুক্তরা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মামলায় এখনও কোনও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় হয়নি।
এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতও কম নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে যে, বিজেপি সরকার শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং তাঁকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে এসেছে। সংসদে একাধিকবার এই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক হয়েছে এবং আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে তদন্তের দাবিও উঠেছে। যদিও কেন্দ্র সরকার বারবার জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই নেই এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে।
মার্কিন আদালতের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ বিরোধীদের সেই অভিযোগকে নতুন করে রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যদি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এতটাই যুক্তিসঙ্গত হয়, তাহলে আদালতের সামনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে আপত্তি কোথায়? আদালতও কার্যত একই প্রশ্ন তুলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনের পর থেকেই আদানি গোষ্ঠীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক শুরু হয়। পরে মার্কিন বিচার দপ্তর এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। এই ফৌজদারি মামলাটি সেই তদন্তেরই অংশ ছিল। এখন বিচারপতির নির্দেশের ফলে মামলাটি সরাসরি খারিজ হচ্ছে না; বরং ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের সামনে বিস্তারিত কারণ ও তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। সেই ব্যাখ্যা আদালত গ্রহণ করলে তবেই মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ফলে আদানি মামলাকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মার্কিন বিচার দপ্তর কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদালত সেই ব্যাখ্যাকে কতটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে, তার উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী গতিপথ।