নয়াদিল্লি: কোভিড অতিমারির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ২০২০ সালে তৈরি হয়েছিল PM CARES Fund। কিন্তু সেই তহবিলে বিপুল অর্থ জমা থাকলেও প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার হয়নি। করে রাখা হয়েছে ফিক্স ডিপোজিট। এমনই তথ্য সামনে আসছে সম্প্রতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অডিট রিপোর্টে।
দেখা যাচ্ছে, মার্চের শেষে তহবিলটির মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮,৪৫২ কোটি টাকা। কিন্তু খরচ হয়েছে ৮৭.৮৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট প্রাপ্ত ৮,৪৫২.৯৫ কোটি টাকার মাত্র ০.০১ শতাংশ খরচ হয়েছে—অথবা প্রতি ১০০ টাকা প্রাপ্তির বিপরীতে প্রায় ১ পয়সা।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে PM CARES Fund-এর মোট প্রাপ্তি ছিল ৮,৪৫২.৯৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৭,১৮৮.৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিলের মোট প্রাপ্তি বেড়েছে।
তবে নজর কেড়েছে তহবিলের অর্থের ব্যবহার এবং আয়ের উৎসের পরিসংখ্যান। তহবিলের প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থই ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা রয়েছে। এর পরিমাণ ৭,৮৪৬.৬৫ কোটি টাকা। এই আমানত থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সুদ এসেছে ৪৬৯.৩৮ কোটি টাকা—যা ওই বছরে তহবিলের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস।
অন্যদিকে, দেশীয় অনুদান উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় অনুদান ছিল ৬৮১.৮১ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫-এ তা নেমে হয়েছে ৪৭৯.০৫ কোটি টাকা। বিদেশি অনুদানও ১১.৩৫ লক্ষ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৯.২৮ লক্ষ টাকা।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে তহবিলের ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে PM CARES Fund থেকে মোট অর্থপ্রদান হয়েছে মাত্র ৮৭.৮৫ লক্ষ টাকা। অথচ তার আগের অর্থবর্ষে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৫.৬০ কোটি টাকা।
বিপুল অর্থ, অথচ ব্যয় এত কম কেন?
বিরোধীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তৈরি হওয়া এই তহবিলে হাজার হাজার কোটি টাকা জমে রয়েছে, যার বড় অংশ আবার স্থায়ী আমানতে রাখা হয়েছে। অথচ জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য তৈরি তহবিল থেকে এক অর্থবর্ষে এক কোটি টাকারও কম অর্থ খরচ হওয়া স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে কার স্বার্থে এই টাকা জমিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন ছিল কোভিডের সময় সেই টাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও মুক্ত করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য, অতিরিক্ত ট্রেন বাস বিমান চালানো, যাতে মহামারির সময় সহজে বাড়ি ফিরতে পারেন সবাই। কিন্তু সে সব কিছুই করা হয়নি মানুষের কাছ থেকে তোলা এই বিপুল টাকায়।