নিজস্ব প্রতিবেদন: ৯০ মিনিটে পারেনি, অপেক্ষা করতে হয়েছে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। তবে শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে জিতল লিওনেল স্কালোনির দল। আর এবারও এত ভাল খেলেও শেষ পর্যন্ত আর সেমিফাইনালের শিকে ছিঁড়ল না সুইজারল্যান্ডের কপালে।
শুরু থেকেই ম্যাচের গতি ছিল তীব্র। বলের দখল বেশি ছিল আর্জেন্টিনার পায়ে। তারই পুরস্কার ১০ মিনিটে। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দল। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ তৈরি করেন হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা। কিন্তু কখনও শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, কখনও সুইস গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় সুইজারল্যান্ড।
এক গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি সুইসরা। পাল্টা আক্রমণে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের একাধিক সেভও ম্যাচে তাদের ফিরতে দেয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।
বিরতির পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ের গোলে সমতা ফেরে। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ালেও ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭২ মিনিটে। আগেই একটি কঠিন ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখা ব্রিল এম্বোলো এবার ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করতে গিয়ে দলকে বিপদের মুখে ফেলে দেন। প্রথমে রেফারি তাঁর ফাঁদে পা দিলেও রিভিও দেখে মিথ্যা অভিনয়ের জন্য ফের হলুদ কার্ড দেখান। ফলে লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এম্বোলোকে। ১০ জনে নেমে আসে সুইজারল্যান্ড।
সংখ্যায় পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ লড়াই করে সুইসরা। নির্ধারিত সময়ের বাকি ১৮ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ মিলিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট এক জন কম নিয়ে খেলেও আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় গোল করতে দেয়নি তারা। এই সময়ে একের পর এক আক্রমণ শানায় আর্জেন্টিনা। কখনও বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে বেরিয়ে যায়, কখনও সুইস গোলরক্ষক অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বিপদ সামাল দেন। অন্য প্রান্তেও সুযোগ পেয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠে সুইজারল্যান্ড। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকও ছিলেন সমান তৎপর।
শেষ পর্যন্ত চাপের বাঁধ ভাঙে অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে। হুলিয়ান আলভারেজের গোলে আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তখন ক্লান্ত সুইস রক্ষণ আর শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (১২০+১) লাউতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
স্কোরলাইন ৩-১ হলেও ম্যাচের চিত্র ছিল অনেক বেশি লড়াইয়ের। বিশেষ করে ১০ জনে নেমে যাওয়ার পর সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ প্রতিরোধ এবং দুই গোলরক্ষকের একাধিক দুর্দান্ত সেভ ম্যাচটিকে অন্য মাত্রা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের ধার, ধৈর্য এবং অতিরিক্ত সময়ে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিল বিশ্বকাপের শেষ চারে। ১৬ জুলাই সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তার আগে ১৫ তারিখ ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন।