‘ইঞ্চি ইঞ্চি করে জমি হারাচ্ছি’— অরুণাচলে নতুন করে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, মনে করাচ্ছে বিজেপির সাংসদ-নেতাদের পুরনো বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চিনা সেনার অনুপ্রবেশ এবং পরিকাঠামো নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন, গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চিনা সেনা অন্তত ৬০-৭০ কিলোমিটার ভিতরে প্রবেশ করে রাস্তা, ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে। আর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। বিরোধীরা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নিরব দর্শক হয়ে থাকা ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। কিন্তু সরকার বিষয়টি কার্যত ধামাচাপা দিতে চাইছে বলে অভিযোগ। কিন্তু কার স্বার্থে এই কেন্দ্রের এই আচরণ? উঠছে প্রশ্ন।

সবচেয়ে আলোড়ন ফেলেছে Nah Welfare Society (NWS)-র স্মারকলিপি। সংগঠনের দাবি, গত ৬ বছরে আপার সুবনসিরির একাধিক সীমান্ত এলাকায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) রাস্তা, সেতু, ক্যাম্প এবং অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেসব এলাকায় তাঁরা বহু প্রজন্ম ধরে পশুচারণ, শিকার এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন, তার বড় অংশে এখন আর যেতে পারছেন না। সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের বক্তব্য, আমরা ইঞ্চি ইঞ্চি করে আমাদের জমি হারাচ্ছি।”

অভিযোগ, ওয়িং, পানিয়ার, মারপান, পটরাং লেক এবং টিন্ডিংটাং-সহ একাধিক এলাকায় চিনা বাহিনী পরিকাঠামো তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সীমান্তের বাস্তব পরিস্থিতি দিল্লির সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে একাধিক বার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও হেলদোল চোখে পড়েনি।

বিজেপিরই সাংসদ বিধায়কদের পুরনো বক্তব্য ফের আলোচনায়

বর্তমান বিতর্কের মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে অরুণাচল পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ তাপির গাওয়ের কয়েক বছর আগের সংসদীয় বক্তব্য। লোকসভায় তিনি দাবি করেছিলেন, চিন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে এবং সীমান্তে দ্রুত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। সেই বক্তব্যের ভিডিও আবারও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমান বিতর্কে উদ্ধৃত হচ্ছে।

এর আগেও তাপির গাও সীমান্তের বহু এলাকা ভারতের সরকারি মানচিত্রে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সীমান্তবর্তী বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রশাসনিক নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তার দিক থেকেও উদ্বেগজনক।

নাচো কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক নাকাপ নালো বলেছেন, স্থানীয় সংগঠনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তবে বিষয়টি সরকারিভাবে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হবে।

বিরোধীদের প্রশ্ন

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, যদি স্থানীয় সংগঠন এবং বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের অতীতের বক্তব্যকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা, সর্বদলীয় বৈঠক এবং সীমান্তের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবিও তুলেছে তারা।

সীমান্তে প্রকৃত পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। তবে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, সামাজিক সংগঠনের স্মারকলিপি এবং বিজেপিরই কয়েকজন জনপ্রতিনিধির অতীতের বক্তব্য—সব মিলিয়ে অরুণাচল সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন নজর, কেন্দ্র সরকার এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেয় কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *