কলেজে ভর্তির ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে ছাত্রছাত্রীদের পাশে SFI, ঘাটালে ABVP-র বিরুদ্ধে বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাল: রাজ্য তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে কলেজে নতুন ছাত্রছাত্রীদের পাশে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন SFI। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করতে এসএফআইকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল ABVP-র বিরুদ্ধে। ঘাটাল কলেজে এসএফআইকে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এবিভিপির বহিরাগতদের মদতের অভিযোগ তোলা হয়েছে কলেজ প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধেও।

২৭ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে স্নাতক স্তরে নবাগত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। এই পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের নথি যাচাই করে ভর্তি নিশ্চিত করছে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন কলেজেও প্রথম দিন থেকেই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ঘিরে দেখা যায় উৎসাহের পরিবেশ।

এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সহায়তার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন কলেজের সামনে হেল্প ডেস্ক চালু করেছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI)। সংগঠনের দাবি, ডকুমেন্ট গুছিয়ে দেওয়া, ABC ID তৈরি, পড়াশোনা, হোস্টেল, মেস, স্কলারশিপ, সিলেবাস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার মতো বিভিন্ন কাজে তারা নবাগতদের সহযোগিতা করছে। খড়গপুর, সবং ও গড়বেতা কলেজে SFI-এর সহায়তা শিবিরে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ভরসা SFI-এর ক্যাম্পগুলিই। অন্যদিকে, SFI-এর অভিযোগ, ABVP-র কিছু কর্মী কলেজ চত্বরে উপস্থিত থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের সহায়তার কাজে তাদের সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।

এদিকে ঘাটাল কলেজে প্রথম দিনের ভেরিফিকেশনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। SFI-এর অভিযোগ, ABVP-র নেতৃত্বে বহিরাগতদের একটি দল তাদের হেল্প ডেস্কে একাধিকবার বাধা দেয় বলে অভিযোগ। এবং “ABVP ছাড়া কোনও সংগঠন চলবে না” বলে হুমকি দেয়। সংগঠনের দাবি, ABVP নেতা সৌমিক অধিকারী, সুরজ সামন্ত ও আরিত্রিক পালের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। এছাড়া রানিং স্টুডেন্টদের ভেরিফিকেশন রুমে প্রবেশে বাধা, ছাত্রীদের ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার অভিযোগও তুলেছে SFI। তাদের আরও অভিযোগ, এই ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষের নীরব ভূমিকা ছিল।

পশ্চিম মেদিনীপুর এসএফআই জেলা সম্পাদক রণিত বেরা জানিয়েছেন, আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত জেলার সমস্ত কলেজে তাদের হেল্প ডেস্ক চালু থাকবে। “ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে সমস্ত ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। নবাগত ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকার ক্ষেত্রে কারও কোনও ফতোয়া বা বাধা আমাদের কাজ থামাতে পারবে না”। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে ABVP বা কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *