নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপিছু প্রায় ৭৪-৭৫ ডলারে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম। তবু দেশের খুচরো বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দামে এখনও কোনও ছাড় মেলেনি। সেই নিয়েই নতুন করে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার।
বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেশের খুচরো বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত এই বিজেপি সরকার। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছচ্ছে না। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক নেটিজেন এই সরকারকে সরাসরি ‘জনবিরোধী’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার পুরো বোঝা সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। দলের দাবি, অতীতে কম দামের সময় সরকার যে আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল, তার একটি অংশ এখন জনগণকে স্বস্তি দিতে ব্যবহার করা উচিত।
সরকারের অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে কেনা অপরিশোধিত তেল ভারতীয় শোধনাগারগুলিতে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে পেট্রোল-ডিজেলের দামে স্বস্তি আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের খুচরো দাম শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েলের উপর নির্ভর করে না। কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক, রাজ্য সরকারের ভ্যাট, পরিবহণ ব্যয়, ডিলার কমিশন এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থাও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পাশাপাশি এই কর ও অন্যান্য খরচের বোঝা এতটাই বেশি যে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে পাম্পে পড়ে না।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এক্স, ফেসবুক-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী অভিযোগ করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না। কেউ কেউ সরকারের করনীতির সমালোচনা করে দাবি করছেন, জ্বালানির উপর উচ্চ করের কারণে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে। দ্রুত সেই চাপ কমানোর দাবিও তুলেছেন বহু নেটিজেন।