সরকার বদলালেও নারী নির্যাতনের ছবি বদলায়নি, মূক ও বধির মহিলাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলদা: পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার জাহালদায় শাউড়ি স্কুল বাজার এলাকার নির্যাতিতার বাড়িতে গেল সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির (AIDWA) জেলা নেতৃত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবারকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ জুন রাতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ছত্রিশের এক মূক ও বধির মহিলাকে সোমবার রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সঞ্জয় ভূঞ্যা নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে এবং ঘরের তালা ভেঙে ওই মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরদিন সকালে ঘরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় বাসিন্দারা শাউড়ি বাজার সংলগ্ন একটি স্কুলের পিছনের রাস্তায় ওই মহিলাকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর পরনের জামা গলায় বাঁধা ছিল।

ঘটনার পর বেলদা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত সঞ্জয় ভূঞ্যাকে গ্রেফতার করেছে। তার বাড়ি দাঁতন-২ ব্লকের ললাট গ্রামে, যা নির্যাতিতার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত এর আগেও শাউড়ি এলাকায় মহিলাদের উত্ত্যক্ত করত। সোমবারের ঘটনায় তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিআই(এম)-এর সম্পাদক বিজয় পাল। তাঁর বক্তব্য, “সরকার পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র বদলায়নি।নতুন সরকারের আমলেই শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই এমন একাধিক ঘটনা সামনে চলে এল। আগের সরকারের আমলে রাজ্য দুষ্কৃতীদের কার্যত স্বর্গরাজ্য ছিল। নতুন সরকারের আমলেও পরিস্থিতি বদলের কোনও ইঙ্গিত মিলছে না এখনও পর্যন্ত।”

শনিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সম্পাদিকা নাসিমা বিবি, সভানেত্রী স্মৃতিকণা দেবনাথ এবং কানন বৈদ্য, কস্তুরী দাস, সন্ধ্যা শ্যামল, দীপালি রায়-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেত্রী ও কর্মীরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা নির্যাতিতার মা, ভাই ও বৌদির সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *