নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: সম্প্রতি প্রকাশিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল কমপ্লেইন্টস কমিটি (ICC) নির্বাচনের ফলাফলে বড় সাফল্য পেল স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজ ও বিভাগে জয় তুলে নিয়ে সংগঠনটি নিজেদের প্রভাব আরও মজবুত করল। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন কলেজ চত্বরে লাল পতাকা হাতে বিজয় মিছিলে সামিল হন SFI কর্মী-সমর্থকেরা।
ছাত্র সংগঠনটির দাবি, নিরাপদ ক্যাম্পাস, যৌন হেনস্তা বিরোধী ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিকেই নির্বাচনের মূল ইস্যু করা হয়েছিল। সেই বার্তাতেই সাড়া দিয়েছেন ভোটাররা। সংগঠনের নেতাদের মতে, এই ফলাফল শুধুমাত্র নির্বাচনী জয় নয়, ক্যাম্পাস রাজনীতিতে বিকল্প ভাবনার প্রতি ছাত্রসমাজের সমর্থনেরও প্রতিফলন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ABVP এবং NSUI-র প্রভাব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কলেজে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির উপস্থিতি ক্রমশ দৃশ্যমান হয়েছে। ICC নির্বাচনের ফল সেই প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
ফল ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমেও উচ্ছ্বাস দেখা যায় SFI সমর্থকদের মধ্যে। বিভিন্ন পোস্টে এই জয়কে ‘ছাত্রীদের নিরাপত্তা, সমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে রায়’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনে ছাত্রস্বার্থের প্রশ্নে আরও জোরদার আন্দোলনের বার্তাও দিয়েছে সংগঠনটি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ICC নির্বাচন সরাসরি ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক আবহ বোঝার ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের পরিবেশ, প্রতিনিধিত্ব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।
তাই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ফলাফলকে ঘিরে ছাত্র রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে SFI-র উত্থান, অন্যদিকে ABVP-র শূন্য প্রাপ্তি— দুই মিলিয়ে রাজধানীর শিক্ষাঙ্গনে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। আগামী দিনের ছাত্র রাজনীতিতে এই ফলাফল কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর।