ঘরের মেয়ে, বিশ্বরেকর্ডধারী সাঁতারু আফরিনের হাতে উদ্বোধন সিপিআই(এম) জেলা কমিটির রক্তদান শিবিরের

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে মেদিনীপুরের মিরবাজারে কৃষক ভবনে আয়োজিত রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করলেন রেকর্ড সময়ে পক প্রণালি পেরোনো ‘ঘরের মেয়ে’ আফরিন জাবি। এদিন সিপিআই(এম)-এর তরফে তাঁকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।

মূলত মেদিনীপুর শহর ও আশপাশের এলাকার পার্টি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে নিয়েই এদিনের রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই কৃষক ভবনে রক্তদাতাদের ভিড় জমতে থাকে। উপস্থিত সকলের মধ্যেই ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। রক্তদাতাদের একটি করে লাল চন্দন গাছের চারা, গোলাপ ফুল, কলম ও শংসাপত্র দিয়ে সম্মান জানানো হয়। ৩২ জন মহিলা-সহ মোট প্রায় ২২২ জন রক্তদাতা নাম নথিভুক্ত করেন।

আফরিন এদিন তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে নিজেকে মেদিনীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি সিপিআই(এম)-এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং এমন একটি কর্মসূচির অংশ হতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলে মন্তব্য করেন।

আফরিন শুধু মহিলাদের মধ্যেই নয়, নারী ও পুরুষ— উভয় বিভাগের সাঁতারুদের বিচারে রেকর্ড সময়ে পক প্রণালি অতিক্রম করেছেন। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পক প্রণালি তিনি মাত্র ৭ ঘণ্টা ৫ মিনিটে পার করেন। ২৪ বছর বয়সী আফরিন গত বছরের ২৯ জুলাই ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন ১৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিটে।

এদিনের রক্তদান শিবিরে আফরিনের সঙ্গে তাঁর বাবা শেখ পিয়ার আলিও কৃষক ভবনে উপস্থিত ছিলেন। সিপিআই(এম)-এর তরফে আফরিনের ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও তুলে দেওয়া হয়।

গ্রীষ্মের এই দাবদাহের সময়ে যেমন রক্তের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তেমনই রক্তদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই সিপিআই(এম) জেলা কমিটির তরফে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সম্পাদক বিজয় পাল।

তিনি বলেন, সারা বছরই পার্টির বিভিন্ন শাখার তরফে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রক্তের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই সময়টিকে রক্তদান শিবির আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ জন রক্তদাতার। সেই লক্ষ্য অনায়াসে অতিক্রম হওয়ায় এবং গোটা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সব স্তরের নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের অভিনন্দন জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *