নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই মহিলা সাংবাদিককে থানার ভিতরে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। অভিযোগকারী সাংবাদিক শাহিন খান এবং নাফিসা খান ‘4 PM নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের একটি অনুষ্ঠানের খবর করতে গিয়ে প্রশ্ন করার পর তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁদের সাকেত থানায় নিয়ে গিয়ে গালিগালাজ, চড় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করেন কয়েক জন পুলিশকর্মী। ঘটনার পরেই ক্যামেরার সামনে এসে পুরো বিষয়টি জানান তিনি।
ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। পরে কংগ্রেসও তদন্ত এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। ‘4 PM নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর দাবি, প্রায় ৪০টি দেশের সাংবাদিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কাছ থেকেও সমর্থনের বার্তা এসেছে।
নেটওয়ার্কের এডিটর-ইন-চিফ ও প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় শর্মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে ব্যবস্থা না নিলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা। তাঁর দাবি, শাহিন ও নাফিসা অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের মুখ ও নাম দেখে শনাক্ত করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর ৩টে পর্যন্ত ধর্না চললেও FIR-এর প্রতিলিপি মেলেনি বলেও অভিযোগ।
অন্য দিকে, দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অনন্ত মিত্তল অভিযোগকে ‘তথ্যগত ভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন। পুলিশের বক্তব্য, দুই মহিলা অনুষ্ঠানস্থলের কাছে নির্দিষ্ট ভিভিআইপি পথে স্কুটি রেখে রাস্তা আটকে দিয়েছিলেন এবং বার বার বলা সত্ত্বেও তা সরাননি। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার কারণে মারধরের অভিযোগও পুলিশ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
পাল্টা সঞ্জয় শর্মার দাবি, পুলিশ যদি সত্যিই নির্দোষ হয়, তবে থানার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী থানার প্রতিটি ঘরে সিসিটিভি থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের সাসপেন্ড করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।