বারুইপুর: মায়ের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। সেই কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছিলেন বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। সেই আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট।
১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য লাহেক। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ শর্তসাপেক্ষে লাহেকের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জামিনে থাকাকালীন এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি বারুইপুর থানার তরফে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তাঁকে হাজির হতে হবে।
গত জুনের প্রথম সপ্তাহে বারুইপুর থানা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনে নামেন। সেই প্রতিবাদে সামনের সারিতে ছিলেন সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য লাহেক আলি।
অভিযোগ, ওই নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সন্দেহের বশে এক অটোচালককে পিটিয়ে হত্যা করে। একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের মারধর এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এরপরই একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত হতে বলছেন লাহেক আলি, আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার কাজে পুলিশকে সাহায্য করছেন তিনি।
কিন্তু অদ্ভুত ভাবে গত ১২ জুলাই লাহেক আলিকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিপিআইএম রাজ্য নেতৃত্বের তরফে বারবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে লাহেক আলিকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে। প্রায় ৫০ দিন ধরে জেলে ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন। মায়ের এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই আদালত লাহেককে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে।