নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও দুর্নীতি মুক্ত শিক্ষা অবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে এবার মেদিনীপুরে অনশনে বসলেন বামপন্থী ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতীকি এই অনশনে প্রতি সংহতি জানিয়েছে বিভিন্ন বামপন্থী গণসংগঠন।
পশ্চিম মেদিনীপুর এসএফআই জেলা সম্পাদক রনিত বেরা জানিয়েছেন, শুধু দিল্লির জন্তর মন্তরেই নয়, গোটা দেশে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে এবং জোরদার হচ্ছে। তাই মেদিনীপুরে তারাও সকালে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্যে দিয়ে গান্ধী মূর্তির পদতলে অনশনে বসেছেন।
রনিতের আহ্বান, দেশের ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াইয়ে আপ আমার মানুষ সবাই সামিল হন। তিনি বলেন ফ্যাসিবাদী এই বিজেপি আরএসএসের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুৎ করতে না পারলে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থায়ই নয় দেশের সংবিধান, মানুষের মৌলিক অধিকার, অজস্র স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ানা স্বাধীনতা – কোনও কিছুই বাঁচানো যাবে না। তাই প্রতিটি সাধারণ মানুষকে সরাসরি এই লড়াইয়ে নামাজ আহ্বান জানান তিনি।
মেদিনীপুরের প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে এসএফআইয়ের বর্তমান নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রাক্তন নেতৃত্ব সামিল হয়ে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন সিটু নেতা ও এসএফআইয়ের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক বিজয় পাল, বর্তমান রাজ্য কৃষক সভার সভাপতি মেঘনাদ ভুইয়া, সিটু নেতা তথা এসএফআই প্রাক্তন জেলা সম্পাদক সমর মুখার্জী, ক্ষেতমজুর সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব প্রসেনজিৎ মুদি, সিটু জেলা সম্পাদক তথা এসএফআই প্রাক্তন জেলা সম্পাদক গোপাল প্রামানিক, সামাজিক ন্যায় মঞ্চের নেতা তথা এসএফআই প্রাক্তন জেলা নেতৃত্ব কুন্দন গোপ, DYFI জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী, DYFI জেলা সভাপতি কৌশিক দে, ABPTA জেলা সভাপতি লক্ষীকান্ত মেইকাপ, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছাত্র ডক্টর ঝিনুক দাস।
বক্তারা প্রত্যেকেই এই প্রতীকী অনশনে সবাইকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অভিযোগ করেন কী ভাবে দেশের, জাতির মেরুদন্ড – শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে অন্ধকারের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে ভারতকে। তাঁরা বলেন দ্বিতীয় স্বাধীনতার এই লড়াইয়ে জেতা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা আর দেশের মানুষের সামনে খোলা নেই। তাই সবাই এই লড়াইয়ে নিজের নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী শামিল হোন।