সোনম ওয়াঙচুককে বলপূর্বক হাসপাতালে সরানো ঘিরে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক বিতর্ক, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কাড়ছে কেন্দ্র’, আক্রমণে সিপিআইএম

নিজস্ব প্রতিবেদন: অনশনরত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াঙচুককে বলপ্রয়োগ করে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সফদরজং হাসপাতালে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, অনশনরত এক আন্দোলনকারীকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া এবং পরে তাঁর সঙ্গে বিরোধী নেতাদের দেখা করতে না দেওয়া কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাবেরই পরিচয়।

শনিবার সাতসকালে জোর করে সোনম ওয়াঙচুককে সফদরজং হাসপাতালে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, পলিটব্যুরো সদস্য আর অরুণ কুমার এবং সাংসদ জন ব্রিটাস। তাঁরা স্পষ্ট অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ তাঁদের ওয়াঙচুকের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সিপিআই(এম) নেতাদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়।

এম এ বেবি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারকে গায়ের জোর দমন করছে, মোদী-শাহ-ভাগবতের যৌথ যোগসাজশে এই কাজ হয়েছে। কোনও গণতান্ত্রিক নিয়মকানুন মানা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, দেশের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সেই সমস্যার সমাধানের বদলে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, এই পরীক্ষা কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।

সিপিআই(এম)-এর দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একজন অনশনরত আন্দোলনকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। দলের মতে, বিরোধী মতকে প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে দমন করার প্রবণতা বিজেপি সরকারের আমলে ক্রমশ বাড়ছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াঙচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাজনিত কারণে নেওয়া হয়েছে।

তবে বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন, যদি বিষয়টি শুধুই চিকিৎসা সংক্রান্ত হয়, তাহলে কেন বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হল না? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *