নিজস্ব প্রতিবেদন: অস্ট্রেলিয়া সফরে আবারও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে ‘Melbourne Meets Modi’ অনুষ্ঠানের আগে স্টেডিয়ামের বাইরে একদল বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘Modi Go Home’ ‘Take the rest with you’ (মোদি বাড়ি যান, সঙ্গে নিয়ে যান বাকিদেরও) লেখা ব্যানার।
শুধু তাই নয়, ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক যুবককে মোদি ও ভারতী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে শোনা যায়। পুলিশ ওই যুবককে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। তবে বাড়তে থাকা এই বিক্ষোভের ভিডিওগুলি ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
গত কয়েক বছরে বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে এ ধরনের প্রতিবাদের ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে তাঁর সফরের সময় মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রবাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কালো পতাকা দেখানো হয়েছে, কোথাও আবার ‘Modi Go Back’ বা অনুরূপ স্লোগান উঠেছে।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের বাইরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং প্রবাসী ভারতীয়দের একাংশ বিক্ষোভে শামিল হন। একইভাবে ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক সফরে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে। কানাডায়ও ভারত-কানাডা সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে মোদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিখ সংগঠন বিক্ষোভ সংগঠিত করেছে। অস্ট্রেলিয়াতেও এর আগের সফরগুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি নজরে এসেছিল।
গত মাসেই আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও ভারত সরকারের তরফে প্রকাশ্য কোনও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় শুরু হয়েছে সমালচোনা।
এ প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পালের অভিযোগ, ভারতের শাসক দল বিজেপি এবং আরএসএস যেভাবে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, বর্ণবিদ্বেষ এবং ঘৃণার রাজনীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে, তার ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, একসময় ভারত গোটা বিশ্বের কাছে মহাত্মা গান্ধীর দেশ হিসেবেই পরিচিত ও সমাদৃত ছিল। কিন্তু তাঁর ভাষায়, “গান্ধির হত্যাকারীদের আদর্শে বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় আসার পর বিভাজনের রাজনীতিকে আরও উসকে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।”
বিজয় পালের দাবি, এই রাজনীতির প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার উপরও পড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি মণিপুরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে জাতিগত সংঘর্ষ জিইয়ে রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে।” এবং এই সব ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান এবং ছবি খুব বাজে ভাবে নষ্ট করছে, প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও।
তিনি আরও বলেন, “মানুষকে সজাগ হতে হবে, বাস্তবটা বুঝতে হবে। কারা বন্ধুর বেশে দেশের শত্রু আর কারা মানুষের জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করে, তা চিনতে হবে। সিপিআই(এম) ভারতের সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং চালিয়ে যাবে। এই লড়াইয়ে হারার বা হারানোর কিছু নেই, দেশ বাঁচাতে এই লড়াই জেতা ছাড়া আর কোনও পথও খোলা নেই। তবেই দেশ বাঁচানো, দেশের মান-সম্মান রক্ষা করা সম্ভব হবে। না হলে এই দেশও একদিন পাকিস্তানের মতো ধ্বংসের পথে চলে যাবে।”