সুব্রত কুণ্ডু
আধুনিকীকরণের নামে ৫১টি আইটিআই কলেজকে বেসরকারি বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন নয়া বিজেপি সরকারের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চ্যাটার্জী। তাঁর যুক্তি, কলেজগুলিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনেক বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো উন্নত করা যাবে। এর জন্য প্রাথমিকভাবে অন্তত পাঁচ বছর ‘পিএম সেতু’ (প্রধানমন্ত্রী স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং আপলিফটমেন্ট) প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুরোধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আইটিআই এবং বৃত্তিমূলক কোর্সের পড়ুয়াদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে গত বছর থেকে চালু হয়েছে ‘পিএম সেতু’। তিনি আরও জানান, দেশের অন্য রাজ্যগুলির মতোই এ রাজ্যে বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে টাটার মতো প্রথম সারির কর্পোরেট সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই কলেজগুলি পরিচালনার দায়িত্বভার থাকবে।
বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষাকে আসলে ধাপে ধাপে কি বেসরকারি করণের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নয়? এই পদক্ষেপ আসলে কেন্দ্রের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ। যেখানে শিক্ষার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্র নিজে নিতে নারাজ। কলেজগুলি বেসরকারি সংস্থার হাতে গেলে পড়াশুনার খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে রাজ্যের গরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যাবে।
“শিক্ষার বেসরকারিকরণ শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকেই উৎসাহিত করে।” সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে জনগণের করের টাকায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিয়ে কর্পোরেট বান্ধব সরকার তাদের মুনাফা লাভের পথকে প্রশস্ত করে দিতে চাইছে।
কারিগরি ব্যবস্থা দিয়ে শুরু, প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ধীরে ধীরে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে বি জে পি সরকার। “শিক্ষা অধিকার, বিক্রির জিনিস নয়”।
পাঠক্রম থেকে আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামো সবটা গড়ে তোলার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে না দিয়ে প্রয়োজন বোধে তাদের সাথে মৌ স্বাক্ষরিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে
সরকারি শিক্ষা বাঁচাতে,
ছাত্রদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে
প্রতিবাদ গড়ে তুলতেই হবে।