নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মার্কিন সামরিক বাহিনীর অধীন ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের প্রকাশিত একটি মানচিত্র ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই মানচিত্রে ভারতের অখণ্ড ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করা পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং জম্মু-কাশ্মীরের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছে কংগ্রেস। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশনীতির তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা।
বুধবার কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে দাবি করেন, ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের ব্যবহৃত মানচিত্রে ভারতের সরকারি অবস্থানকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে সঠিকভাবে দেখানো হয়নি এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদী সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবিকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন খেরা। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘মোদীজির বন্ধু রাষ্ট্রগুলির ভারতের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বারবার সামনে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের আর শত্রুর প্রয়োজন কী?’’কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে কেন্দ্র যে দাবি করে, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। খেরার মতে, ভারতের সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আমেরিকার এমন অবস্থান সেই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সম্প্রতি ‘ইউএস ইন্ডো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে ফের ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড’ করার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। বিরোধীদের দাবি, যে অঞ্চলের কৌশলগত পরিচয়ের সঙ্গে ভারতের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ‘ইন্ডো’ শব্দটি বাদ পড়া ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব হ্রাসেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের বক্তব্য, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সামরিক কমান্ডের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই পুরনো নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস। তাদের মতে, ভারতের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে কেন্দ্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ভারতের মানচিত্র ও সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশি সংস্থার এই ধরনের উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।