ফের রান্নার গ্যাসের দামে বড়সড় বৃদ্ধি, চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের জ্বালানি নীতি!

নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি, ৭ জুন: ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। শনিবার মধ্যরাত থেকে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃদ্ধি। গত ৭ মার্চ সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম মোট ৮৯ টাকা বেড়ে গেল।

তেল কোম্পানিগুলির ঘোষণা অনুযায়ী, দিল্লিতে ১৪.২ কেজির একটি গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪২ টাকা হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে ৮৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৯১৩ টাকা হয়েছিল।

রান্নার গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রকৃত ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচ লাগামছাড়া হয়ে উঠছে।

পেট্রল ও ডিজেলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মার্চ মাসে পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু ২ টাকা কমিয়েছিল। তারপর থেকে খুচরো দামে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দামে ব্যাপক পতন হলেও তার  সুফল সাধারণ মানুষকে পেতে দেয়নি এই কেন্দ্রীয় সরকার। নানান ভাবে অতিরিক্ত ট্যাক্স চাপিয়ে দাম বাড়িয়েই রেখেছে। তার উপর ইরানের মতো পুরনো বন্ধু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মোদী সরকার।

সমালোচকদের বক্তব্য, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে, তখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি বিভিন্ন কর ও শুল্কের মাধ্যমে সেই সুবিধার বড় অংশ নিজেদের রাজস্ব হিসেবে রেখে দেয়। আবার দাম বাড়লে দ্রুত তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়ে। এই কারণেই দেশে জ্বালানির দামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্যে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁদের প্রশ্ন, ক্রুড অয়েলের বাজারে সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও কেন সেই স্বস্তি পুরোপুরি মানুষের কাছে পৌঁছয় না?

কেন্দ্রের দাবি অবশ্য ভিন্ন। সরকারের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি ব্যয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তবে বাস্তব প্রশ্ন একটাই— গত তিন মাসে রান্নার গ্যাসের দাম ৮৯ টাকা বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেই অতিরিক্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে দেশের কোটি কোটি পরিবারকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *