নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়া দিল্লি, ৬ জুন: দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার দেশের যুবসমাজের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা কর্মসূচিতে হাজির হলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র-যুব, চাকরিপ্রার্থী ও অভিভাবকেরা। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে আমেরিকা থেকে দিল্লিতে পৌঁছন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ও ছাত্র আন্দোলনের সুপরিচিত লড়াকু এসএফআই নেত্রী নেত্রী ঐশী ঘোষকেও।
NEET-সহ একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়মের এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কারোর কোনও জবাবদিহির অভাবের বিরুদ্ধে সরব হন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মূল দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংকটের নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
সকালে আম্বেদকরের একটি বই হাতে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছন অভিজিৎ দিপকে। তাঁকে ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। পরে তিনি যন্তর মন্তরে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মসূচি বজায় রাখার আহ্বান জানান। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট মুছে দেওয়া যেতে পারে কিন্তু মানুষের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করা যাবে না। আন্দোলনের একমাত্র এজেন্ডা হল শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি ও সংস্কার।
আন্দোলন মঞ্চে এসে সোনাম ওয়াংচুক বলেন, দেশের যুবসমাজের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। আন্দোলন মঞ্চে এদিন শুরু থেকেই দেখা যায় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী এবং ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ঐশি ঘোষ।
যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। দিল্লি পুলিশ আগেই কর্মসূচির অনুমতি দিলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য ভিড় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন শুরু থেকেই কর্মসূচিকে নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক ছিল। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
ককরোচ জনতা পার্টি, যা শুরু হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ভাষায়, তা এখন বাস্তবের রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যন্তর মন্তরের সমাবেশে বারবার উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং চাকরির সুযোগের সংকটের প্রসঙ্গ। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে একের পর এক বিতর্ক শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ছাত্র-যুবদের আস্থাকে ধাক্কা দিয়েছে।
সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। তিনি জানিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকারে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য আরও বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।