গুজরাটে আদানির মুদ্রা বন্দরে বারবার মাদক উদ্ধার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদন : গুজরাটের মুদ্রা বন্দর দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দরগুলির অন্যতম। বেসরকারি সংস্থা Adani Ports and Special Economic Zone পরিচালিত এই বন্দর দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আমদানি-রফতানি হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে একের পর এক বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

২০২১ সালে প্রায় ২,৯৮৮ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়েছিল মুদ্রা বন্দর থেকে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ হাজার কোটিরও বেশি টাকা বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে কোকেন, হেরোইন-সহ একাধিক মাদক চালান ধরা পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মুদ্রা বন্দর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

প্রশ উঠছে, যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়েছে, তার বাইরেও কি আরও বড় অংশ ধরা না পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে? মাদক পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিজ্ঞতা বলছে, ধরা পড়া চালান অনেক সময় মোট পাচারের একটি অংশমাত্র। অর্থাৎ কয়েক হাজার কেজি মাদক যদি ধরা পড়ে, তাহলে পাচারকারীরা আরও কত পরিমাণ মাদক সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এর সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে নেই, তবু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিকভাবে বড় চালান ধরা পড়া নিজেই একটি সতর্কবার্তা।বিশেষজ্ঞদের

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি বন্দর বা একটি সংস্থার সাফল্য-ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়। বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলিতে নজরদারি, স্ক্যানিং, গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির কার্যকারিতা কতটা শক্তিশালী, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। তবেসমালোচকদের

সমালোচকদের বক্তব্য আরও তীব্র। তাঁদের দাবি, দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বন্দরে বারবার আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের চালান ধরা পড়া উদ্বেগের বিষয়। কারণ বন্দরগুলি কেবল পণ্য পরিবহণের কেন্দ্র নয়, এগুলি কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র নিয়মিত ভাবে এমন বন্দরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাহলে তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, আদানি গোষ্ঠী বারবার জানিয়েছে যে বন্দরের নিরাপত্তা, তল্লাশি ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকে এবং তদন্তে সহায়তা করে। আইন অনুযায়ী, কনটেনার পরীক্ষা, গোয়েন্দা নজরদারি ও মাদক উদ্ধার অভিযানের দায়িত্ব মূলত শুল্ক দফতর, এনসিবি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার উপরেই বর্তায়।

তবু বিতর্ক থামছে না। কারণ প্রশ্নটি শুধুমাত্র কে দায়ী, তা নয়। প্রশ্ন হল, দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ দিয়ে যদি বারবার এত বড় মাদক চালান প্রবেশের চেষ্টা হয়, তাহলে নিরাপত্তা বলয়ের কোথাও না কোথাও দুর্বলতা রয়েছে কি না।

মাদক শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র, অর্থপাচার, সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ। ফলে মুদ্রা বন্দরে বারবার বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নিছক বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরং প্রয়োজন, দেশের সমস্ত বড় বন্দর— সরকারি হোক বা বেসরকারি— সেখানে আরও কঠোর নজরদারি, উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষা। কারণ যে মাদক ধরা পড়েছে, তা অবশ্যই সাফল্যের গল্প। কিন্তু যে মাদক ধরা পড়েনি, তার সম্ভাবনাই উদ্বেগকে আরও বড় করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *