নিজস্ব সংবাদদাতা, দাসপুর, ৩১ মে: বিজেপি রাজ্য সভাপতি যতই বার্তা দিন, খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে তাঁর দলের বর্বর রূপ। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানা এলাকার সরবেড়িয়া গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার গোবিন্দপুরে সিপিআই(এম)-এর শাখা অফিসে ব্যাপক হামলা। সিপিআইএমের দলীয় সভা চলাকালীন রড-লাঠি নিয়ে হামলা, অফিস বন্ধ রাখার হুমকি। এমনকি আক্রমণে গুরুতর আহত পার্টি কর্মীর স্ত্রীকে থানায় যেতে বাধা দিতে বিধবা করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার দুপুরে শাখা অফিসে সিপিআই(এম)-এর একটি সভা চলছিল। উপস্থিত ছিলেন পার্টির এরিয়া কমিটি থেকে বুথ স্তরের নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎ প্রায় ২৫টি মোটরবাইকে করে স্থানীয় এবং পাশের কিছু গ্রামের বিজেপির লোকজন সেখানে হাজির হয়। তারা সিপিআই(এম) অফিসে ঢুকে প্রথমে হুমকি দেয়— অফিস বন্ধ করতে হবে, এলাকায় সিপিআই(এম) করা চলবে না। পাল্টা প্রতিরোধের মুখে পড়ে সঙ্গে আনা রড ও লাঠি নিয়ে সিপিআইএম নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।
হামলায় আহত হন ৮১ বছর বয়সি প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা শীতল মাইতি, শংকর পাত্র, অসীম মূল-সহ কয়েক জন। সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হন সিপিআই(এম) কলোড়া এরিয়া কমিটির সদস্য প্রবীর সামন্ত। তাঁকে কিল-ঘুঁসি মারা হয়, এমনকি মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেখান থেকে তাঁকে কোনও মতে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্য আহতরা বিজেপির ঘেরাটোপে গ্রামে কার্যত বন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, গ্রাম থেকে বের হওয়া যাবে না। থানায় অভিযোগ জানালে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। প্রবীর সামন্তের স্ত্রীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলা হয়, হাসপাতালে মুখ খুললে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁকে বিধবা হতে হবে।
হামলার ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই আক্রমণের পিছনে বিজেপির স্থানীয় নেতা কৌশিক মাইতি, অভিজিৎ মূলা, ভোলা দলই-সহ আরও কয়েক জন রয়েছেন। অভিযোগ, রামসাগর গ্রামের শুভঙ্কর সিং এবং তার দুষ্কৃতী সঙ্গীরা সিপিআই(এম) নেতৃত্বের উপর নৃশংস হামলা চালায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুভঙ্কর সিং আগে তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা ছিল এবং এলাকায় মাদক ও মদ পাচার-সহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এবার ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। তার দলবলই হামলা চালানোর পাশাপাশি গ্রামজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে গোটা গ্রামজুড়ে নতুন করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আহতদের দেখতে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে যান সিপিআই(এম) নেতা সুনীল অধিকারী-সহ একাধিক নেতৃত্ব। যুব নেতা অভিজিৎ হড়-সহ বেশ কয়েক জন বাম নেতা-কর্মী হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন।