নিজস্ব সংবাদদাতা: “শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রশ্নফাঁস থেকে পড়ুয়াদের আত্মহত্যা— এর দায় এড়ানো যায় না।” এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধরমেন্দ্র প্রধানের অপসারণ দাবিতে অনলাইন ডেপুটেশন শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। ইতিমধ্যেই সেই ডেপুটেশনে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ সই করেছেন।
“পিটিশন টু স্যাক এডুকেশন মিনিস্টার” শিরোনামের ওই অনলাইন আবেদনপত্রে লেখা হয়েছে, “শিক্ষা ব্যবস্থা আপসের শিকার। আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের মৃত্যু থেকে এক দশক ধরে চলা প্রশ্নফাঁসে লক্ষ লক্ষ ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে। এর শেষ হওয়া উচিত।” সেই সঙ্গেই শিক্ষামন্ত্রীর “অবিলম্বে অপসারণ” দাবি জানানো হয়েছে।
আপনিও চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করে এই আন্দোলনের সরিক হতে পারেন। petition.cockroachjantaparty.org/sack
আসলে, বিজেপি সরকারের আমলে বিগত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্রীয় বা বিভিন্ন রাজ্য স্তরের বেশ কিছু পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দেশ জুড়ে ক্ষোভ বাড়ছিল। তার মাছে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি মামলার শুনানির সময় দেশের বেকার যুবকদের ককরোচ বা আরশোলা বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। পরে যদিও তিনি সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেন তবে ততক্ষণে সেই আরশোলা মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, মিম এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের মিশেলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তৈরি হয়ে যায় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। নামেই রয়েছে কটাক্ষ— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাত অভিজিৎ দিপকের দাবি, “আরশোলার মতোই সাধারণ মানুষকে বারবার মেরে ফেলতে চাইলেও তারা টিকে থাকে।” মূলত ছাত্র-যুবদের ক্ষোভকেই ডিজিটাল মাধ্যমে সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই প্ল্যাটফর্মের জন্ম।
কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই যা ঘটেছে, তা অনেককেই অবাক করেছে। ইনস্টাগ্রামে CJP-র ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র তিন দিনের মধ্যে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে যায়। এই প্রতিবেদন লেখার সময় CJP-র ইন্টাগ্রাম ২ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। যেখানে বহু টাকা খরচ করে বিজেপির ইনস্টার ফলোয়ার কেবল ৮০ লাখের কিছু বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষণের বদলে মিম, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, ছোট রিল এবং সরাসরি ক্ষোভের ভাষা ব্যবহার করায় তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই প্ল্যাটফর্ম।
তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গেই বিতর্কও বেড়েছে। CJP-র X হ্যান্ডল আচমকাই ভারতে বন্ধ বা “withheld” করে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, রাজনৈতিক চাপের কারণেই এই পদক্ষেপ। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা X কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। বিরোধীরা অবশ্য এই ঘটনাকে “ডিজিটাল সেন্সরশিপ”-এর উদাহরণ বলেই কটাক্ষ করছে।
এই আবহেই CJP-র পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সহ বেশ কয়েক জন রাজনৈতিক নেতাকে। মহম্মদ সেলিম প্রকাশ্যেই CJP-র উত্থানকে “তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ” বলে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরেও যে নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতিবাদের ভাষা তৈরি হচ্ছে, সেলিমের সমর্থন সেই প্রবণতাকেই আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, CJP আদৌ ভবিষ্যতে কোনও বাস্তব রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নফাঁস এবং তরুণদের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল পরিসরে বড়সড় আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।