মেদিনীপুর শহরের ছাত্র, যুব, মহিলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির সম্মিলিত উদ্যোগে গঠিত ‘একুশে মঞ্চ’-এর আয়োজনে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শনিবার সুভাষ মুক্ত বিদ্যালয়ের নেতাজী হলে সাড়ম্বরে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানের। সকালেই সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা করে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করা হয়। তার পরেই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
প্রথম পর্বে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের জেলা সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন। ‘বিপন্ন বাংলা—বিপন্ন মাতৃভাষা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ড. শ্যামল চক্রবর্তী। এ বছরের ‘একুশে সম্মান’-এ সম্মানিত করা হয় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সর্বাণী হালদারকে। তাঁর হাতেই হাতেখড়ি হয় আড়াই বছরের শিশু দিভিশা পালের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী জয়ন্ত সাহা ও সুনীল বেরা, লোকসংস্কৃতি গবেষক ড. মধুপ দে, লেখিকা রোশনারা খান এবং সাহিত্যিক বিমল গুড়িয়া।
দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একুশে সম্মানে ভূষিত সর্বাণী হালদারের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় পর্বটির। পরে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন আলোকবরণ মাইতি, রথীন দাস, কেয়া সেন, মোনালিসা আঢ্য এবং অনিন্দিতা শাসমল। নবনীতা বসুর পরিচালনায় দলগত নৃত্যও পরিবেশিত হয়। তরুণ কবিদের কণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন প্রসাদ মল্লিক, অরূপজীব রায়, সৌরভ মুখোপাধ্যায় ও সূর্যকান্ত জানা।
ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে দিনভর এই আয়োজনে মেদিনীপুরে মাতৃভাষা দিবস পালন এক আন্তরিক আবহ তৈরি করে।