দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল নিয়ে সংসদে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না—এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় (পিএমও) লোকসভার সচিবালয়কে জানিয়ে দিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ), পিএম কেয়ার্স ফান্ড এবং জাতীয় সামরিক তহবিল (এনডিএফ) নিয়ে সংসদে প্রশ্ন বা আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৩০ জানুয়ারি লোকসভার সচিবালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে পিএমও লোকসভার কার্যবিধির ৪১(২)(৮) এবং ৪১(২)(১৭) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে জানায়, এই তহবিলগুলি ভারত সরকারের সঞ্চিত তহবিল নয় এবং সরকার এগুলির প্রতি সরাসরি দায়বদ্ধ নয়। সরকারের যুক্তি, এই তহবিলগুলি জনগণের স্বেচ্ছা অনুদানে তৈরি এবং সরকারি কোষাগার থেকে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। সেই কারণেই এগুলি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলের জাতীয় মুখপাত্র ডঃ শামা মোহামেদ সামাজিক মাধ্যম X-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়ে সংসদে প্রশ্ন নিষিদ্ধ করা মানে সাধারণ মানুষকে তথ্য জানার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি সত্যিই এই তহবিল জনকল্যাণের কাজে ব্যবহার করে থাকে, তবে সংসদে প্রশ্ন উঠলে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
ডঃ শামা মোহামেদের অভিযোগ, পিএম কেয়ার্স ফান্ডকে প্রথমে তথ্যাধিকারের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল, এবার সংসদীয় প্রশ্নও নিষিদ্ধ করা হল। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৭ মার্চ কোভিড অতিমারির সময় পিএম কেয়ার্স ফান্ড গঠন করা হয়। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এই তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ৬,২৮৩.৭ কোটি টাকা। কিন্তু এই বিপুল অর্থ কীভাবে, কোথায় এবং কতটা খরচ হয়েছে—তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার পথ বন্ধ হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
কংগ্রেসের বক্তব্য স্পষ্ট—জনগণের অর্থে তৈরি তহবিল যদি সংসদের নজরদারির বাইরে থাকে, তবে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্ন থেকেই যায়।