নয়াদিল্লি: দিল্লিতে ছট্ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। রাজধানীর বিভিন্ন ঘাটে পা রাখলেন আম আদমি পার্টির (AAP) নেতারা। অভিযোগ— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ছট্ স্নান’-এর জন্য দিল্লি সরকারের তৈরি করা এক কৃত্রিম ঘাটে নাকি ফিল্টার করা জল ভরা হয়েছে! আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিজেপি–আপ রাজনৈতিক সংঘাত।
সূত্র জানাচ্ছে, সোমবার রাজধানীতে ছট্ পুজোয় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার আগেই রবিবার আপ নেতারা সরব হন। দলের দিল্লি ইউনিট প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, “বিজেপি যমুনার ধার ঘেঁষে একটি কৃত্রিম পুকুর তৈরি করেছে। ওয়াজিরাবাদ জল পরিশোধন প্লান্ট থেকে ফিল্টার করা পানীয় জল এনে তাতে ভরেছে, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার সামনে ‘স্নান’-এর দৃশ্য দেখানোর জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “বিহার ও পূর্বাঞ্চলের ছট্ ভক্তদের বিভ্রান্ত করতে বিজেপি পূর্ব খাল দিয়ে উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের জন্য যে জল যেত, তা বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ যমুনার দূষণ কমানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।”
ভরদ্বাজ দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির (DPCC) রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যমুনার জলে স্নান করলেই গুরুতর রোগ হতে পারে। “প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন, তাই তাঁর জন্য ফিল্টার করা জলের নদী বানানো হয়েছে। কিন্তু গরিব পুর্বাঞ্চলিদের জন্য রইল মলিন যমুনার জল,” অভিযোগ ভরদ্বাজের।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীষ সিসোদিয়া, অতিশি-সহ আপের নেতারাও একযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, “দিল্লিতে ছট্ পার্বণের গভীর ধর্মীয় অনুভূতিকে উপহাস করেছে বিজেপি।”
অন্যদিকে, দিল্লি বিজেপির সভাপতি বিরেন্দ্র সচদেবা পাল্টা জবাবে বলেন, “এই প্রথম কোনও বিরোধী দল সরকারের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। এএপি ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যমুনা ঘাটে ছট্ নিষিদ্ধ রেখেছিল, এখন তারা কৃত্রিম ক্ষোভ দেখাচ্ছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এএপি সরকার প্রশাসনিক ভিত্তিতে কেন ছট্ পুজো বন্ধ রেখেছিল? আর এখন পরিষ্কার ঘাটে স্নানের ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে কেন?”
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী রেবা গুপ্তা বলেন, “আমাদের সরকারের মূলমন্ত্র ‘ঐতিহ্যও, উন্নয়নও’। এই উৎসব ঐক্য, সংস্কৃতি ও পরিচ্ছন্নতার প্রতীক। রাজধানীর প্রতিটি ঘাটে ছট্ পালনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।”
রবিবার সন্ধ্যায় পুজোয় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই প্রথম দিল্লি সরকার শহরজুড়ে এত বড় পরিসরে ছট্ উৎসব আয়োজন করছে। এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার প্রতীক।”
যদিও রেখা গুপ্তার বক্তব্যের পরেও থামেনি বিতর্ক। ইতিধম্যেই ভাইরাল হয়েছে যমুনা থেকে একদম আলাদা করে তৈরি করা একটি ‘পুকুরে’র ছবি ভিডিও। যার সঙ্গে যমুনার বা যমুনার জলের কোনও সম্পর্ক নেই।