কারা থাকবেন কারা বাদ যাবেন এসআইআরে, স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব সংবাদদাতা: এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিসন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে কিছু ক্ষেত্রে আতঙ্ক ছড়ালেও নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়ে দিয়েছে—“অযথা উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।”

কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “যাঁরা ওই এলাকার প্রকৃতবাসিন্দা, ১৮ বছরের বেশি এবং ভারতীয় নাগরিক—তাঁদের ভোটাধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। এই তিন শর্ত পূরণ হলেই নাম থাকবে ভোটার তালিকায়।”

কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাকেই বেস ইলেক্টোরাল রোল ধরা হবে। অর্থাৎ ওই তালিকায় থাকা প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই—যদি না সুনির্দিষ্ট আইনি কারণে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

কারা বাদ পড়তে পারেন এসআইআর-এর সময়?

নির্বাচন কমিশন ও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাত্র তিনটি কারণে কোনও ভোটারের নাম বাতিল হতে পারে—

১. মৃত ভোটার

যাঁদের মৃত হিসেবে সরকারি রেকর্ডে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের নাম বাতিল করা হবে।

এক কমিশনকর্তার কথায়,
“Dead electors must be removed. এটাই আইন। এতে কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় না।”

২. স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার

যারা অন্য এলাকায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন এবং নতুন ঠিকানায় ভোটারের নাম তুলেছেন, তাঁদের পুরনো ঠিকানার নাম বাদ পড়বে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া—দ্বৈত নাম রাখার সুযোগ নেই।

৩. ভুল বা নথিহীন অন্তর্ভুক্তি

যারা ভুলবশত তালিকায় ঢুকে পড়েছেন অথবা বৈধ প্রমাণপত্র নেই—সেই ধরনের ভুল অন্তর্ভুক্তির সংশোধনই হচ্ছে এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য।

এক জেলা নির্বাচন দফতরের আধিকারিক জানান, ভুল করে তালিকায় ঢুকে পড়া হল সবচেয়ে বড় সমস্যা। যাঁরা প্রকৃত বাসিন্দা—তাঁরা বাদ যাবেন না। কিন্তু ভুল নাম থাকলে তা সংশোধন করতেই হবে।”

কারা থাকবেন ভোটার তালিকায়?

  • সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা
  • বয়স ১৮ বছরের বেশি
  • ভারতের নাগরিক
  • বৈধ নথিপত্রে ঠিকানা ও পরিচয় প্রমাণ করতে সক্ষম

এসআইআর প্রক্রিয়ার ধাপগুলি

৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা
• যাঁদের নাম ২০০২ সালের মূল তালিকা বা বর্তমান তালিকার সঙ্গে মিলছে না, তাঁদের ERO নোটিস পাঠাবেন
• ওই নোটিস পাওয়ার পর ১১ ধরনের নথির মধ্যে একটি জমা দিয়ে নিজের ঠিকানা ও পরিচয় প্রমাণ করতে হবে
৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি ও যাচাই
• সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

এক কমিশন কর্মকর্তা বলেন,
“শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম বাদ যাবে না। নথি জমা দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

আতঙ্ক নয়, সচেতনতার বার্তা

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে—এই পুরো প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য প্রকৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া নয় বরং ভুল তথ্য সংশোধন করা।
কমিশনের বক্তব্য, সঠিক ভোটারদের আতঙ্কের কিছু নেই।

এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও—আইন অনুযায়ী যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, যদি তাঁরা নোটিস পেলে যথাযথ নথি জমা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *