মাইক্রো ফিনান্সের থাবা থেকে দুগ্ধ চাষীদের বাঁচানোর ডাক সম্মেলন মঞ্চ থেকে

দুগ্ধ চাষিদের জন্য আলাদা সমবায় গড়ে তুলে মাইক্রোফিনান্সের জুলুমবাজি থেকে রক্ষা করতে হবে। ১ মার্চ রবিবার এই দাবি উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা দুগ্ধ চাষি সমিতির প্রথম সম্মেলনে। সম্মেলনের আগে হুমগড়ে মিছিল ও সমাবেশ সংগঠিত হয়। সম্মেলনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির মধ্যে ছিল দুধের ন্যায্য দাম, বিপণন ও বাজারে উন্নতি সাধন, গোখাদ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ভক্তরাম পান, সারা ভারত কৃষক সভার প্রাদেশিক সভাপতি মেঘনাদ ভূঁইয়া, দুগ্ধ চাষি সমিতির রাজ্য সভাপতি সুনীল অধিকারী, সংগঠনের নেতৃত্ব তপন ঘোষ, অভয় ঘোষ, প্রসেনজিৎ মুদি প্রমুখ।

বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে তৃণমূলের রাজত্বে কাজের আকাল। বিকল্প হিসাবে এখন শিক্ষিত যুবরাও গবাদি পালন করছেন। গবাদির খাদ্য ও ওষুধের যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে সেই অনুপাতে দুধের দাম নেই। আর এই গবাদিজাত দুগ্ধ ঘরে রাখার জিনিস নয়। তার জন্য সঠিক পরিকাঠামো গড়ে না তোলা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের বিস্তার না করার পিছনে দায়ি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। এর বিরুদ্ধে আপোষহীন ও লাগাতার লড়াইয়ে দুগ্ধ চাষিদের শামিল করার আহ্বান জানান বক্তরা। দাবি ওঠে, প্রাণী স্বাস্থ্য রক্ষার ব্লক ভিত্তিক পরিকাঠামো, দুধ বিপণনের পরিকাঠামোর গড়ে তুলে উপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার।

ভক্তরাম পান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, দুগ্ধ চাষকে রক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে দুধের আনুষঙ্গিক ও সহায়ক শিল্পের প্রসার সেই ভাবে গড়ে না ওঠায় গ্রামীণ অর্থনীতি মার খাচ্ছে। বর্ষাকালীন রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে গো-পালকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ প্রতিরোধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা সরকারিভাবে করতে হবে। গবাদি প্রাণী ও প্রাণীসম্পদের বিকাশ ও সংরক্ষণের কাজে পঞ্চায়েতকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সম্মেলন হয় কমরেড দীপক সরকার মঞ্চ (গঙ্গামেলা মোড়), কমরেড নির্মল ঘোষ নগরে (হুমগড়)-এ। প্রতিবেদন পেশ করেন জেলা সংগঠনের আহ্বায়ক সুভাষ দে। মোট ২১ জন প্রতিনিধি আলোচনা করেন। ৩১ জনের জেলা কমিটি গঠিত হয়। সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রশান্ত ঘোষ। সভাপতি সুভাষ দে এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন পরিতোষ গোস্বামী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *