বেহাল রাস্তা সেতু, প্রাণ হাতে যাতায়াত, সবজি চাষিরা বাজারে পৌঁছতে ঘুরছেন ৪৮ কিলোমিটার

নিজস্ব সংবাদদাতা, গড়বেতা: সবজির ভাণ্ডার পশ্চিম মেদিনীপুরে গড়বেতা ও গোয়ালতোড় ব্লকের শতাধিক গ্রামের চাষিরা আজ চরম সমস্যার মুখে। মাঠে সবজি আছে, বাজারে রয়েছে চাহিদা কিন্তু তা বেচতে পারছেন না কৃষকরা। কারণ চার মাস আগে বন্যার জলে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সেতু, রাস্তা ভেঙে নষ্ট হয়ে গেলেও হুঁশ নেই প্রশাসনের। ফলে গ্রাম থেকে সরাসরি পাইকারি বাজারে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না সবজি, দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। রাস্তা সারাইয়ের টাকাই বরাদ্দ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামের পর গ্রামের মানুষ।

মাস চারেক আগে বন্যায় গড়বেতার গাংড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। শিলাবতীর শাখা কয়তা নদীর বাঁধের উপর দুদিকের রাস্তা (কজওয়ে) নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে গড়বেতার সব থেকে বড় সবজির পাইকারি বাজার রাধানগরে পৌঁছতে পারছেন না গাংড়া, ইঁদুরডাঙার মতো বহু গ্রামের কৃষকরা। এই রাস্তা ছাড়া রাধানগর পৌঁছনর আর কোনও রাস্তাও নেই। এই রাস্তা পাশের জেলা বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকদেরও রাধানগরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা। গোয়ালতোড় এলাকার ছবিটাও একই।

গড়বেতা, গোয়ালতোড় ব্লকের চারটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা এবং বাঁকুড়া জেলার ২৫ টি মৌজা মিলিয়ে দেড় শতাধিক মৌজার কৃষকরা সবজি ফলিয়ে বাজারজাত করতে সমস্যার সম্মুখীন। রাধানগর বাজার থেকে অন্য বছর এই সময় প্রতিদিন  ২৫-৩০টি বড় লরি সবজি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যায়। কিন্তু রাস্তা ও সেতুর ভেঙে পড়ায় কৃষকদের ২৪ কিলোমিটার রাস্তা অতিরিক্ত অতিক্রম করতে হচ্ছে। ফলে যাতায়াত মিলিয়ে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে রাধানগর আসতে। ফলে খরচ কয়েক গুন বেড়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ শীলাবতী থেকে বালি পাচারের কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না নদী ভাঙন। ভেঙে পড়ছে রাস্তা সড়ক। আর গোটা পরিস্থিতি নিয়ে গড়বেতা-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অসীম সিংহের সঙ্গে যোগাগাযোগ করা হয়। তাঁর দাবি, ভাঙা রাস্তা সেতুর কথা তিনি শুনেছেন। শুনেছেন গ্রামবাসীদের সমস্যা হচ্ছে বলেও জানেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত রাস্তা মেরামতের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে নাম প্রকাশে এক আধিকারীক জানিয়েছেন, টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় কোনেও কাজই করা যাচ্ছে না। এদিকে এলাকার চাষি থেকে সাধারণ মানুষ যে ভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই সব ভাঙা রাস্তা সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন তাতে তাঁদের ক্ষোভ প্রতিদিন একটু একটু করে চরমে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *