নিজস্ব প্রতিবেদন, তেহট্ট: ওপর ওপর লড়াই যে লোকদেখানো, তা আরও একবার সামনে চলে এল। নদিয়ার তেহট্ট পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কোনও রাখঢাক না করেই পরস্পরের হাত ধরাধরি করে বাম প্রার্থীদের হারাল।
তেহট্ট–১ পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন সংখ্যা ৩৩। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, জেলা পরিষদ সদস্য, বিধায়ক ও সাংসদ মিলিয়ে সেখানে মোট ৫০ জনের ভোটাধিকার রয়েছে। বন, ভূমি এবং পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দুটি ফাঁকা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেরা। ভোট সংখ্যা বেশি থাকলেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে কোনও প্রার্থীই দেয়নি বিজেপি।
পঞ্চায়েত সমিতির ৫০ জন ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যের মধ্যে বিজেপির পক্ষে ছিল ১৯টি এবং তৃণমূলের দখলে ছিল ১৬টি ভোট। এক বিধায়ক প্রয়াত হওয়ায় তৃণমূলের ভোট সংখ্যা কমে ১৫-এ নেমে আসে। বাম–কংগ্রেসের মোট ভোট সংখ্যা ছিল ১৬।
বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন মোট ৪৫ জন সদস্য। বাম প্রার্থী শ্রাবন্তী খাঁকে ৩০–১৫ ভোটে পরাজিত করে কর্মাধ্যক্ষ হন তৃণমূলের নিতাই দাস। তাঁর প্রাপ্ত ৩০টি ভোটের মধ্যে তৃণমূলের ১৩টি এবং বিজেপির ১৭টি ভোট ছিল। ঠিক একইভাবে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে ২৯–১৪ ভোটে জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী গোপাল রায়। তাঁর প্রাপ্ত ২৯টি ভোটের মধ্যে ১৮টি এসেছে বিজেপির কাছ থেকে।
ফলাফলের পর তৃণমূল–বিজেপির ‘সেটিং’ আবারও প্রকাশ্যে চলে আসায় সিপিআইএম জেলা কমিটির সদস্য সুবোধ বিশ্বাস কটাক্ষ করে বলেন, “যাহা বিজেপি, তাহাই তৃণমূল—এ তো মুকুল রায়ই বলে দিয়েছেন। এখন প্রতি মুহূর্তে তার প্রমাণ মিলছে।”
সিপিআইএমের তরফে আরও বলা হয়েছে, যখনই তৃণমূল বিপদে পড়ে, বিজেপি তাকে রক্ষা করতে মাঠে নামে—সে দুর্নীতি ইস্যুতে ইডি–সিবিআইয়ের হাত থেকে মমতা–অভিষেককে বাঁচানো হোক বা অন্য কোনও বিষয়েই হোক। একই ভাবে সংসদে বা রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে যেখানেই প্রয়োজন, বিজেপিকে দু হাত ভরে সাহায্য করে প্রতিদান দেয় তৃণমূলও। তৃণমূল নেত্রী মুখে সাম্প্রদায়িক বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেও বাস্তবে ‘বিজেমূল’-এর লড়াইটা বাম–কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই।
গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের তরফে গতানুগতিক মন্তব্যই পাওয়া গেছে। তৃণমূলের যুক্তি, স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে এমন জোট হতেই পারে। যদিও তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি এবং জেলার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মণ্ডল বলেন, “স্থানীয় নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিল। আমরা কোনওভাবেই বিজেপির মতো একটি সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতা দখল করতে চাইনি। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপির বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করছেন, তখন এই জোট সারা রাজ্যে খারাপ বার্তা দেবে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি দিলীপ পোদ্দার কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওঁর ব্যক্তিগত কিছু চাওয়া–পাওয়া এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।”
যদিও এ বিষয়ে দিলীপ পোদ্দারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।