এসএসসির মেধা তালিকায় গুচ্ছ গুচ্ছ অনিয়ম, আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে চলেছে!

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: এসএসসি–২০২৫–এর একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রকাশ হওয়ার পরই ফের রাস্তায় নেমেছেন নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা। ১৫ নভেম্বর থেকে তাঁরা এসএসসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। মেধা তালিকায় “গুচ্ছ গুচ্ছ অনিয়ম” হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ময়দানও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। সিপিআইএম ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নবাগত প্রার্থীদের অভিযোগ, কাট-অফ ৭০ শতাংশের বেশি হওয়ায় এবং ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ায় বহু ফ্রেশার প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। লিখিত পরীক্ষায় পূর্ণ ৬০-এ ৬০ পেলেও অনেকেই ভেরিফিকেশন কল পাননি। তাঁদের দাবি—অভিজ্ঞতার নম্বর বাতিল করতে হবে এবং শূন্যপদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ৬০-এর মধ্যে ৬০ পেয়ে অ্যাকাডেমিক নম্বরেও পূর্ণ নম্বর পেলেও ভেরিফিকেশনের ডাক মিলছে না— যা তাঁরা “প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে—২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় যেখানে অভিজ্ঞতার নম্বর ছিল না, সেখানে ২০২৫ সালে হঠাৎ এই বাড়তি ১০ নম্বর যোগ করা হল কেন?

আরও গুরুতর অভিযোগ—
১৯৯৭ সালের পরে জন্মানো প্রার্থীরাও অভিজ্ঞতার নম্বর পেয়েছেন, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্যকর্মী হয়েও কেউ কেউ নাকি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার নম্বর পেয়েছেন।
• এমনকি অযোগ্যদের তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজনেরও মেধা তালিকায় নাম উঠেছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান, প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকা শুধুমাত্র অনলাইন তথ্য এবং ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন—অভিজ্ঞতার বাড়তি ১০ নম্বর তাঁরা কোনও ভাবেই মানছেন না। সিপিআইএম-ও জানিয়েছে, এই অনিয়মের বিরুদ্ধে “রাজনৈতিক লড়াই” গড়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *