নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: আসামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গান গাওয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলে দমন করার ঘটনায় আজ মেদিনীপুর কলেজ চত্বরে প্রতিবাদে ফেটে পড়ল ছাত্ররা।
শুক্রবার দুপুরে মেদিনীপুর কলেজের প্রথম গেটের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটি। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।
প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন — “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”।
বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রভাবনার উপর আঘাতের বিরুদ্ধে এই গানই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের প্রতীক।
ছাত্রদের অভিযোগ, বিজেপি-আরএসএস জোট সারা দেশে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একমুখী ধর্মীয় ও ভাষাগত দমননীতি চালাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের গানকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলা মানে ভারতবর্ষের ঐতিহ্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত।
প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে পুড়িয়ে দেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার-এর প্রতিকৃতি।
স্লোগানে মুখরিত হয় গোটা কলেজ চত্বর —
“রবীন্দ্র-নজরুলের এই বাংলায় RSS-এর ঠাঁই নাই!”
“বাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় ছাত্র ঐক্য গড়ো!”
“ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হও সকলে!”
ঘটনার সূত্রপাত অসমের কাছাড় জেলার এক সরকারি স্কুলে। অভিযোগ, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গান গাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও বাংলাদেশপন্থী প্রচারের অভিযোগ তোলে।
এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। শিক্ষক সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলি দাবি জানায় — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের কবি, তাঁর গান গাওয়া কোনও অপরাধ নয়। বরং এটি বাংলার ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক।