নয়াদিল্লি: সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ফের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। চীন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলেও তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রাহুলের। এই ঘটনার জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে দায়ী করেছেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর দাবি, সংসদে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি বই উপহার দিতে চেয়েছিলেন। বইটি কোনও বিদেশি লেখকের নয়, বিরোধী নেতারও নয়—ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে লেখা সেই বই। অথচ, মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই বই নাকি ‘আছে বলেই মানা হচ্ছে না’।
রাহুলের বক্তব্য, ওই বইতেই স্পষ্ট লেখা রয়েছে—চিন সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর এক অত্যন্ত সংকটজনক সময়ে সেনাপ্রধানকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শুধু বলেছিলেন, “যা ঠিক মনে হয়, তাই করুন।”
রাহুল গান্ধীর ব্যাখ্যা, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এমন মুহূর্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অবস্থান কার্যত দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। তাঁর দাবি, জেনারেল নারাভানে নিজেই বইতে লিখেছেন, সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে একা ছেড়ে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গ সংসদে তুলতে চাইলেও তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রাহুলের। তাঁর প্রশ্ন, যদি কোনও অসত্য কথা বলা হতো, তা হলে সরকার ভয় পাচ্ছে কেন?
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাঁকে সংসদে বলতে বাধা দিয়েছেন। গণতন্ত্রে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার এই প্রবণতাকে তিনি ‘সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী’ বলে আখ্যা দেন।
চীন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে যখন চীন আগ্রাসী, তখন প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় ও সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই দায় সেনাবাহিনীর ঘাড়ে চাপিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেকে আড়াল করেছে বলেই তাঁর অভিযোগ।
রাহুল গান্ধীর কথায়, “দেশ প্রশ্ন করছে, আর সরকার উত্তর না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।”
সংসদের ভিতরে এই প্রশ্ন তুলতেই তাঁকে বাধা দেওয়া হচ্ছে—এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।