নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: সরকারি এসএসকেএম-এ বুধবার থেকে চালু হয়ে গেল প্রাইভেট কেবিন পরিষেবা। প্রাথমিক থেকে জেলা এমনকি মহানগরের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল, সরকারি হাসপাতালে নারী নিরাপত্তার পরিস্থিতি সবার জানা। অভিযোগ এই পরিস্থিতিতে তা উন্নত করার বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা দেখায়নি রাজ্য সরকার। তার উপর সরকারি টাকা খরচ করে সরকারি হাসপাতালে নতুন প্রাইভেট কেবিন ব্যবস্থা চালু হল। যা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
প্রাইভেট কেবিন পরিচালনার খরচ রোগীদের কাছ থেকে তোলা হলেও তার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের করের টাকা ব্যবহার হবে। আর পরিষেবা পাবেন বড়লোকেরা? আর এখানেই আপত্তি তুলছেন রাজনৈতিক সচেতন মানুষেরা। যেমন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিআইএম সম্পাদক বিজয় পাল তাঁর ফেসবুকে নোটিশের ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, “SSKM এ সরকারি ভাবে চালু হল প্রাইভেট কেবিন! অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালে, ঠিক বেসরকারি হাসপাতালের মতোই গুচ্ছ গুচ্ছ টাকা দিলে তবেই পরিসেবা পাওয়া যাবে! হ্যাঁ, ঠিকই পড়লেন। SSKM এর অনন্য বিল্ডিং-এ চলবে প্রাইভেট OPD, প্রাইভেট কেবিন। প্রাইভেট OPD তে দেখাতে গেলে ৩৫০ টাকা খরচ করতে হবে। কেবিন নিতে গেলে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে শুরু।
অর্থাৎ, গরীব জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে চলবে বড়লোকদের চিকিৎসা! সরকারি হাসপাতালেও টাকা দিয়ে চিকিৎসা “কিনতে” হবে। এই মডেলে স্বাস্থ্য পরিসেবায় ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করছে তো বটেই, আবার এটা চিকিৎসকদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দুপুর ২টো অবধি সরকারি OPD তে পরিষেবা দেওয়ার পর, চিকিৎসকদের দুপুর ৩টে থেকে এই প্রাইভেট কেবিন এ বাধ্যতামূলক বসতে হবে!
স্বাস্থ্যের বেসরকারিকরণের ক্ষেত্রে সরকার পাকাপাকি ভাবে নেমে পড়েছে। স্বাস্থ্যকে পণ্যের মতো বিক্রি করে’গরীব জনগণের হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়াটাই সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য। এভাবে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে বর্তমান সরকার”
বিজয় পালের এই পোস্টে প্রচুর মানুষ সমর্থন জানিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেছে। তাঁরা তুলে ধরেছেন, সরকারি হাসপাতাল গরীব প্রান্তিক মানুষদের জন্য। তাহলে এই প্রাইভেট কেবিন ব্যবস্থা কাদের জন্য? এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে।
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরে দাসপুরের সোনাখালি হাইস্কুলে মেয়েদের ব্রিগেডেও সরকারি হাসপাতালে পরিষেবার বিষয়টি তোলেন স্কুল ছাত্রী শ্রেয়া মূলা। তিনি দাসপুর গ্রামীন হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং রোগী পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। কেন সাধারণ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে, প্রশ্ন তোলেন।
গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাই যেখানে ভেঙে পড়েছে। জেলা হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাবে বারান্দায় সার দিয়ে শুয়ে থাকতে হয় রোগীদের। সেখানে সাধারণ মানুষের করের টাকায় বড়লোকদের জন্য প্রাইভেট কেবিন তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমানসে।