নিজস্ব সংবাদদাতা: শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিন পেয়ে ফিরলেন বাড়ি। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর তাঁর জেলমুক্তিতে আত্মীয় ও কিছু ঘনিষ্ঠ সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানালেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কার্যত দূরত্বই বজায় রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যও।
এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ২০২২ সালের জুলাই মাসে দীর্ঘ তল্লাশি ও জেরার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর ইডি ও সিবিআইয়ের দায়ের করা একের পর এক দুর্নীতি মামলায় জেলেই ছিলেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়। প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেস পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিলেও পরে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করে।
সিপিআইএম সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এটা আইনি প্রক্রিয়া। বিচারাধীন বন্দি হিসেবে কেউ অনন্তকাল জেলে থাকতে পারেন না। বিচারক মনে করেছেন, এখন তাঁকে জেলে রাখার প্রয়োজন নেই। তাই মুক্তি দিয়েছেন। এতে বিশেষ কিছু অস্বাভাবিক নেই।”
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২২ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ইডি ও সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলাগুলিতে একে একে জামিন পেলেও জেলেই ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত শেষ মামলাতেও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট শর্তের কারণে তখনও তাঁর জেলবন্দি অবস্থা চলছিল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নিম্ন আদালতকে চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জ ফ্রেম করতে হবে এবং দুই মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করতে হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেই মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। আইনজীবীদের মতে, সাক্ষীদের যাতে পার্থ কোনওভাবে প্রভাবিত করতে না পারেন, সেই কারণেই আদালত এমন নির্দেশ দিয়েছিল।
গত শুক্রবার শেষ সাক্ষীর জবানবন্দি অসম্পূর্ণ থাকায় কাজ থমকে ছিল। সোমবার আদালতে সেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়। আর তার পরেই মঙ্গলবার জেল থেকে বেরিয়ে বেহালার বাড়িতে ফেরেন পার্থ। তাঁর পরিবার তাঁকে বরণ করে বাড়িতে তোলেন। সকাল থেকেই তাঁর অনুগামীরা হোর্ডিং-ব্যানার লাগিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন তাঁকে স্বাগত জানাতে।