নিজস্ব প্রতিবেদন: লিওনেল মেসিকে নিয়ে যুবভারতীতে যা ঘটেছে, তার সম্পূর্ণ দায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রশাসনকে নিতে হবে। সেই সঙ্গে শুধু আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক করলেই হবে না—ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বোস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের যে সদস্যরা মাঠে মেসির সঙ্গে ঘুরছিলেন, তাঁদেরও সরাসরি গ্রেফতারের দাবি তুলেছে সিপিআইএম। গোটা ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও।
যুবভারতী কেলেঙ্কারি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে সেলিম বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে খেলা হোক, মেলা হোক, বইমেলা হোক, বই ছাপা হোক—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি, কালোবাজারি, বিশৃঙ্খলা আর ভাঙচুর। তৃণমূলের একটা বৈঠক বা সভা হলেও গুলিগোলা চলে! এই জন্যই তো বাংলাকে বাঁচাতে হবে।”
বামফ্রন্ট আমলে যে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রাজ্যের গর্ব ছিল, তা আজ প্রশাসনের চরম অব্যবস্থার কারণে কার্যত ছারখার হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ সিপিআইএমের। এর আগেও কলকাতায় পেলে ও মারাদোনার মতো কিংবদন্তি ফুটবলার এসেছেন, এবং প্রতিবারই তা সুসৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে—সেই কথাও স্মরণ করিয়ে দেন সেলিম।
সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। সেই সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও বিধায়ক সুজিত বোসের গ্রেফতারের জোরালো দাবি তুলেছেন তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার গোটা বিষয়টি নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণের টাকায় মেসিকে কলকাতায় আনা হলেও রাজ্যের শাসকদলের নেতা ও তাঁদের আত্মীয়রাই ফুটবল তারকার সঙ্গে ছবি তুলেছেন। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি রাজ্য সরকার, বিধাননগর পুলিশ, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বোসকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন শুভঙ্কর।
শনিবার যুবভারতীতে মেসিকে সম্বর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু তার আগেই যুবভারতী কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেসিকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চান এবং প্রতিবারের মতো এবারও একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। এই বিশৃঙ্খলার দায় মূলত আয়োজকদের উপর চাপিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আর মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনাকে ‘কুম্ভীরাশ্রু’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।